রাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কাল, তীব্র লড়াইয়ের আভাস

Send
তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
প্রকাশিত : ১৭:০৩, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৭, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। কাগজে-কলমে ভোটের হিসেবে আওয়ামীপন্থীরা এগিয়ে থাকলেও অন্তঃকোন্দলের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে মূলত বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা। ফলে ভোটযুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ হলুদ প্যানেল এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ সাদা প্যানেলে নির্বাচন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্বিচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ হবে। এতে শিক্ষক সমিতির তালিকাভুক্ত ১১শ’ ৩০ জন শিক্ষক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী একবছরের জন্য শিক্ষকদের সর্বোচ্চ এ বডির প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। দু’টি প্যানেলের প্রার্থীরাই তাদের সফলতা ও ভোটারদের চাওয়া-পাওয়া পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে ১৫টি পদের বিপরীতে ৩০জন প্রার্থী দু’টি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

হলুদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বাংলা বিভাগের খন্দকার ফরহাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের আশরাফুল ইসলাম খান প্রার্থী হয়েছেন। বিপরীতে রয়েছেন সাদা প্যানেলের সভাপতি পদে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাইফুল ইসলাম ফারুকী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পরিসংখ্যান বিভাগের আমিনুল হক।

নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুই দলই। হলুদ প্যানেলের সদস্যরা বলছেন, জয়ী হলে শিক্ষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় ও দাবি দাওয়া পূরণে গুরুত্ব দেবেন। যেহেতু বর্তমান প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তাই সহজেই অভাব-অভিযোগ পূরণ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা বলেছেন, জয়ী হলে শিক্ষকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে বেশি জোর দেবেন।

ভোটের হিসেবে কাগজে-কলমে আওয়ামীপন্থীরা এগিয়ে। তবে অন্তঃকোন্দল এবং প্রার্থিতা বাছাইয়ে অদূরদর্শিতার কারণে নির্বাচনি ফলাফলে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কাগজে-কলমে আমাদের ভোটারসংখ্যা প্রায় ৭শ’; যা মোট ভোটারের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ। ফলে আমাদের জয়ের ব্যাপারে কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু  দলে অনেক সদস্য রয়েছেন, যারা নিজেদের স্বার্থ হাছিলকেই বড় করে দেখতে গিয়ে গ্রুপ তৈরি করে অন্তুঃকোন্দল সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া, সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যাও কম নয়। যার  প্রভাব পড়বে ভোটের রাজনীতিতে। বিগত বছরের সিনেট, সিন্ডিকেট, ডিন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে এবার যেহেতু শুধু শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, সেহেতু গতবারের মতো এবার ভরাডুবি হবে না। আর তা হলেও নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নির্বাচনে শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা। সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফারুকি বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে আমাদের প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। প্রচারণার সময়ে আমরা ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। জয়ী হলে শিক্ষকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য কাজ করবো।’

এদিকে, হলুদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সদস্যদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। আমরা সেগুলো দূর করে সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে পেরেছি বলে মনে করি। নির্বাচনে জয়ী হলে শিক্ষকদের বন্ধ থাকা ইনক্রিমেন্ট চালু করা, সহজ শর্তে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাসহ শিক্ষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আমরা কাজ করবো।’

নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম হামিদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। শিক্ষক সমিতির নির্বাচন প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছ। আশা করছি, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।’

 

/এমএ/

লাইভ

টপ