বগুড়ায় হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৮, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

 মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার গাবতলীর বাহাদুরপুর গ্রামে সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার মামলায় বাবা-ছেলেসহ এক পরিবারের চার জনসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন পলাতক রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬৯)ও আবদুর রহিম (৬০), ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে মো. মামুন (৪৩) ও জুলফিকার আলী টুটুল (৩৫) এবং ময়েজ মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫)।

আসামি শাহজাহান আলী সাজু ও মো. শিপনকে পেনাল কোর্ডের ৩২৫ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পেনাল কোডের ৩২৪ ধারায় পলাতক আসামি মো. সোহাগকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায় তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক রওশন আলীকে পেনাল কোডের ৩২৩ ধারায় এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা ১০ জন হলেন, রবিন, নুর মোহাম্মদ ফটু, আজিজার রহমান, মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, লবির উদ্দিন, মো. বাবু, আবদুস সাত্তার, মো. লিটন ও পলাতক রাফিউল ইসলাম মানিক।

এজাহার, চার্জশিট ও আদালত সূত্র জানায়, ভিকটিম সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লা গত ২০০৬ সালের ৩ জুন গ্রামের আশার আলো সঞ্চয় সমিতি থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলেন। ওই টাকা ছিনতাইয়ে বাধা দিলে আসামিরা তার ভাই মিঠুকে বুকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ইয়াসিন আলী আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গাবতলী থানা ১০ জুন মামলা রেকর্ড করে। তদন্ত চলাকালে ১৩ জুন আসামিরা জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান। ১৭ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উল্লিখিত সাজা ও খালাস পাওয়া ১৯ জন এবং আসামি মাকসুদুর রহমান জনি সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইয়াসিন আলী মোল্লার বাড়ির উঠানে আসে। বাধা দিলে তারা ইয়াসিন আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিনই নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম গাবতলী থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার তৎকালীন এসআই সানোয়ার হোসেন ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে মাকসুদুর রহমান জনি বাদে ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষী গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি আবদুল মতিন ও অতিরিক্ত পিপি ফেরদৌস আলম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম লাল, গোলাম রব্বানী খান রোমান, ইখতিয়ার উদ্দিন, নুরে আলম সিদ্দিকী এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে হাবিবুজ্জামান হ্যাপি ও রাফিউল ইসলাম মানিক মামলা পরিচালনা করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন,‘তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।’

 

/জেবি/

লাইভ

টপ