অর্থ কষ্ট নিয়েই মিলের চাকা সচল রাখেন পাটকল শ্রমিকরা

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:১৩, এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৬, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

মিলে কাজ করছেন শ্রমিকরানিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় কাজের শেষে ইজিবাইক চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের মুখে দু’বেলা দুমুঠো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় পা ভেঙে এখন বিনা চিকিৎসায় জীবনযাপন করছেন। যদি নিয়মিত মজুরি পেতেন তাহলে ইজিবাইক চালাতে হতো না। আর এভাবে দুর্ঘটনায় আহত হতে হতো না। এভাবেই শ্রমিক জীবনের কষ্টের কথা জানালেন খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আবু হানিফ। শুধু তিনিই নয়, সব পাটকল শ্রমিকদের জীবনের কাহিনি কম-বেশি এমন।

প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন পাটকল শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে খুলনা-যশোরের পাটকল শ্রমিকরা কাজে ফেরেন। কিন্তু তাদের অর্থ কষ্ট রয়েই গেছে। আশ্বাস পেয়েছেন ১০ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও মজুরি কমিশন পাওয়ার। কবে সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেবে তাও জানেন না। জানা নেই কীভাবে পরিবারের সদস্য মুখে ভরণ-পোষণ করবেন। তারপরও আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেই মিলের চাকা সচল রেখেছেন তারা।

মিলে কাজ করছেন শ্রমিকরাখালিশপুর জুট মিলের শ্রমিক শাজাহান জানান, মজুরি বকেয়া থাকায় চরম অর্থ কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলের শ্রমিক নেতা বিল্লাল হোসেন জানান, তারা শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানের আশ্বাসের কারণে কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে জোর দারি জানান তিনি। তারা আর রাজপথে আন্দোলন করতে চান না। তারা মিলে কাজ করে উৎপাদন বাড়াতে চান।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা অঞ্চলের সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক পরিবারের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে শ্রমবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ডাইভারসিফিকেশনের মাধ্যমে পাটকলে নতুন প্রযুক্তির কিছু করা জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মিলে কাজ করছেন শ্রমিকরাএকই জুট মিলের প্রকল্প প্রধান বনিজ উদ্দিন বলেন, ‘পাটকল বাঁচাতে হলে আধুনিক যুগোপোযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজের কাজ ন্যায় নিষ্ঠভাবে করতে হবে। তাহলে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে পাটকল।’

দিয়লিয়ার স্টার জুট মিলের নবনিযুক্ত প্রকল্প প্রধান শাওন মাহমুদ উৎপাদন বাড়িয়ে মিলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিকদের।

প্রসঙ্গত, খুলনাসহ দেশের ২২ পাটকলের শ্রমিক লীগ, সিবিএ ননসিবিএ পরিষদ মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে তৃতীয় ধাপে ৯৬ ঘণ্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘণ্টা রেলপথ রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে ঢাকায় বৈঠকে ডাকেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। ঢাকা শ্রম অধিদফতরে ২২ পাটকলের শ্রমিক নেতারা, বিজেএমসিসহ শ্রম অধিদফতরের কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার পর আগামী ১৭ মের মধ্যে মজুরি ফিক্সেশন ও ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যে কারণে ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় শ্রমিক লীগ তাদরে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। ফলে মঙ্গলবার খুলনার খালিশপুর জুটমিল, ক্রিসেন্ট জুটমিল, প্লাটিনাম জুটমিল, স্টার, দৌলতপুর, আলীম, ইস্টার্ন, জেজেআই, কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা সকাল ৬টা থেকে কাজে যোগ দেন।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ