যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:০০, এপ্রিল ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০১, এপ্রিল ২০, ২০১৯

 

কুমিল্লাকুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যৌতুকের দাবিতে মোমেনা আক্তার টুম্পা (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের পালোয়ান বাড়ির (নিহতের শ্বশুর বাড়ি) বাথরুম থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। গৃহবধূ একই উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের উরকুটি গ্রামের আনোয়ার উল্লা মজুমদারের (হারুন) মেয়ে। তার মৃত্যুর পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।



নিহতের ভাই নিজাম উদ্দিন ও মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘সাত মাস আগে পালোয়ান বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে টুম্পার বিয়ে হয়। গত ৪ এপ্রিল টুম্পাকে তার স্বামী দুলাল ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন আনুষ্ঠানিকভাবে বাপের বাড়ি থেকে তুলে নেয়। ৭ এপ্রিল টুম্পা একদিনের জন্য বাপের বাড়িতে আসে। ৮ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায়। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর, টুম্পাকে তার স্বামী দুলাল, শাশুড়ি শ্যামলা বেগম, ননদ ফেরদাউস, ভুলু বেগম, ভুলুর স্বামী লিটন, দেবর হামিদ, জা পলি ও ননদের স্বামী বাচ্চু মিয়া যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। শ্বশুরবাড়ির যেকোনও জিনিস ব্যবহার করলে তাকে গালমন্দ করা হতো। বাপের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র এনে ব্যবহার করতে বলতো। স্বামী বাপের বাড়ির লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতে চায়তো না।’

তারা আরও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে টুম্পার মুঠো ফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়। স্বামী দুলালের ফোনে বার বার কল করলেও তার ফোনও রিসিভ হয় না। পরে ফুফাতো বোন নাছিমার মাধ্যমে (১৯ এপ্রিল) শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে টুম্পার মৃত্যুর খবর পাই। খবর পেয়ে পুলিশ শ্বশুর বাড়ির বাথরুমে কমোটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় টুম্পার লাশ উদ্ধার করে। আমরা বোন হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুলাল টুম্পার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতো। এছাড়া স্বামী অন্য একজন মহিলার সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িত ছিল। আর সে কারণেই স্ত্রী টুম্পাকে হত্যা করেছে সে।’

অভিযুক্ত স্বামী দুলাল এবং তার পরিবারের সবাই পালাতক থাকায়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মেদ জানান, টুম্পার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

/আইএ/

লাইভ

টপ