নুসরাত হত্যাকাণ্ড রানা ও মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২২, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩০, এপ্রিল ২১, ২০১৯







পুলিশের গাড়িতে করে কারাগারে নেওয়া হয় ইফতেখার উদ্দিন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকেনুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামি ইফতেখার উদ্দিন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ এপ্রিল) বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফত উদ্দিনের আদালত এ নির্দেশ দেন। ফেনী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রবিবার তাদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চায়। বিচারক তাদের কারাগারে পঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হবে বলে জানান।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে রাঙামাটি শহরের টি অ্যান্ড টি আবাসিক কোয়ার্টার থেকে ইফতেখার উদ্দিন রানা ও শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকাল চারটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে এমরান হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাদের নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

চট্টগ্রাম পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, তদন্তে রানার নাম এসেছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সোনাগাজী উপজেলার চরগণেশ গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। মামুন ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সে আগে সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

নুসরাতকে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আট জনসহ এই নিয়ে ২১ জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ ও পিবিআই। রানা ও মামুন ছাড়া গ্রেফতার অন্যরা হলো—মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, সাইফুর রহমান জোবায়ের, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, উন্মে সুলতানা মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মারা যান নুসরাত।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ