টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ জোড়া যমজ লামিশা-লাবিবার

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৪৫, এপ্রিল ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২১, এপ্রিল ২২, ২০১৯

জলঢাকার ইউএনও'র কোলে লামিশা ও লাবিবা

নীলফামারীর জলঢাকায় সোমবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় ডে-নাইট ক্লিনিকে কোমরের নিচ থেকে জোড়া লাগানো যমজ সন্তানের জন্ম দেন আনুফা বেগম। তার স্বামী লাল মিয়া সাভারে একটি গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ করেন। বাচ্চা প্রসবের সময় সিজার করতেই তাদের সব টাকা শেষ। এখন টাকার অভাবে জোড়া সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা।

শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝাড় গ্রামের লাল মিয়া বলেন, ‘আমি সাভারে একটি গার্মেন্টসে কাটিং সেকশনে কাজ করি। আমার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। তখন ডাক্তার বলেছিলেন, সন্তান ভালো আছে। ওই সময় জোড়া লাগানো বা যমজের বিষয়ে আমাদের কিছুই বলা হয় নাই। জন্মের পর দেখি জোড়া লাগানো সন্তান। তাদের কোমরের নিচ থেকে জোড়া লাগানো। এরপর সন্তানদের নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গেলে ডাক্তাররা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন।’

আনুফা বলেন, ‘টাকার অভাবে ঢাকা তো দূরের কথা, রংপুরেই থাকা সম্ভব হয়নি। এখন সমাজের ধনী ও হৃয়বানদের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া সন্তানদের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।’

আনুফার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সিজারের সময় ধার-দেনা করে ক্লিনিকের দেনা-পাওনা পরিশোধ করেছি। এরপর আবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসা সম্ভব না। ডাক্তাররা বলেছেন, অপারেশনের মাধ্যমে পায়খানার রাস্তা আলাদা করা সম্ভব হতে পারে। তাই ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছে। টাকা না থাকায় তাদেরকে ফেরত আনা হয়। এখন আল্লাহ জানে ওদের ভাগ্যে কী আছে।’

ডে-নাইট ক্লিনিকের কর্তব্যরত সার্জন ডা. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসাসেবায় আমাদের দেশ বর্তমানে অনেক এগিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কিছুই বলা ঠিক না। তারপরও মনে হচ্ছে, যেহেতু নবজাতকদের মেরুদণ্ড জোড়া লাগানো নয়, তাই ঢাকায় তাদের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।’

এরই মধ্যে জলঢাকা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজাউদ্দৌলা শিশু দু’টিকে দেখতে গিয়েছিলেন। নবজাতকদের স্বজনদের অনুরোধে ইউএনও তাদের নাম রাখেন লামিশা ও লাবিবা।

জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, ‘জোড়া লাগানো শিশুদের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

 

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ