মনোজগতকে খুলে দেয় বই: শিক্ষামন্ত্রী

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ০৭:৫১, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫২, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মিনির সঙ্গে অন্যরাশিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘মনোজগতকে যদি আমরা প্রসারিত করতে না পারি, তাহলে মানব জীবনের অর্থটা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। আমাদের স্বার্থকতা অনেকখানি কমে যায়। বই পড়া মানুষের মনের জগতটাকে খুলে দেয়।’

সোমবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমার দেখা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং এশিয়া ও ইউরোপের ১৩টি দেশ’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মা অধ্যাপক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বেগম গ্রন্থটি লিখেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অসীম সম্ভাবনা নিয়ে বিধাতা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমরা যদি পড়াশোনা ও দেশ ভ্রমন করে পৃথিবী ও সৃষ্টি সম্পর্কে ভালো করে জানতে না পারি, সৌন্দর্য ও জ্ঞানকে নিজেদের মধ্যে ধারণ ও চর্চা করতে না পারি, তাহলে স্রষ্টা আমাদের যেই সম্ভাবনা দিয়ে পাঠালেন, তারই অবমাননা করা হয়। আমাদের সবারই উচিত জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করা। সৃষ্টিকে জানা। অধ্যাপক কামরুন নাহার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে সেই কাজটিই করেছেন। ভ্রমণের মাধ্যমে লেখক যে আনন্দ উপভোগ ও জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করেছেন, তার সবটুকু তিনি নিজের মধ্যে রেখে দেননি। বই আকারে প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন। ভ্রমণকালে ডায়রিতে টুকে নিয়ে সেটাকে বই আকারে প্রকাশ করা অনেক শ্রমসাধ্য কাজ। সে কাজটি তিনি যে করেছেন, সেজন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সবাই হয়তো দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করি। কিন্তু যে দেশটিতে যায় সেটিকে দেখার মধ্যেও ভিন্নতা থাকে। কামরুন নাহার বেগম যেসব দেশ ভ্রমণ করেছেন, সেসব দেশের মিউজিয়াম, পার্লামেন্ট, আদালত, রাজনীতি, অর্থনীতি, পরিবহন, খাবার দাবারের সিস্টেম, বিশেষ বিশেষ স্থাপনা সম্পর্কে লিখেছেন। এটা শুধু দেখা নয়, তিনি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রত পালন করেছেন। একজন নারী হিসেবে লেখিকা যে সময়ে এত পড়াশোনা করেছেন, পেশার জগতে কাজ করেছেন, তার বাইরে সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সব ক্ষেত্রে এত অবদান রেখেছেন সেটি বিস্ময়কর।’

উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কামরুন নাহার বেগম যখন যেখানে গেছেন ডায়রি লিখেছেন। সবাইকে ডায়রি লেখার অভ্যাস করতে হবে। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যদি ডায়রি লেখার অভ্যাস না থাকতো, তাহলে আজকে আমরা এত সুন্দর অসামান্য ইতিহাস পেতাম না। যদি তাজউদ্দিন আহমেদের মতো নেতারা ডায়রি না লিখতেন, তাহলে সেই সময়ের অনেক তথ্য ও ছবি আজ আমরা পেতাম না। তাদের ডায়রি লেখার মাধ্যমে ইতিহাস আমরা ফেরত পেয়েছি। আমরা সবাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছি কিন্তু আমরা লিখছি না। লেখার অভ্যাসটাই ভুলে যাচ্ছি।’

একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজ বিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, চুয়েট’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শিরিন আক্তার চৌধুরী। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন গ্রন্থের লেখিকা প্রফেসর অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বেগম।

/আইএ/

লাইভ

টপ