অবশেষে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পণ্য পরীক্ষণের সিদ্ধান্ত স্থগিত

Send
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৩৭, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫১, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশবেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্য চালান খালাস হওয়ার আগে আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষণের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তা স্থাগিত করেছেন ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বন্দরে পর্যাপ্ত জনবল, জায়গা ও পণ্য উঠা-নামার যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমস এমন সিদ্ধান্ত স্থগিত করে বলে জানা গেছে। তবে এতে ব্যবসায়ীরা আপাপত খুশি হলেও দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না।

এর আগে, গত ১৮ এপ্রিল ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, আমদানি-রফতানি পণ্য চালান খালাসের আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষা করতে হবে।  

আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এমনিতেই একটি পণ্য চালান ভারত থেকে আমদানি হতে ৫ থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে আবার প্রতিটি পণ্য চালান আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষা করতে গেলে ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেতো। এর ফলে পণ্য খালাস একদিকে যেমন কঠিন হয়ে পড়তো তেমনি আমদানি খরচও বেড়ে যেতো। যার প্রভাব পড়তো দেশীয় বাজারে। ব্যবসায়ীরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত স্থগিতে বাণিজ্যে আবার গতি ফিরবে।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এমন সিদ্ধান্ত নিলে কি হবে তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় সংবাদে। এরপরই নড়েচড়ে বসেন সকলে। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত শতভাগ পরীক্ষণের নির্দেশনা স্থাগিত করেন।

যশোরের আমদানি কারক ইদ্রিস আলী বলেন, ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় বেনাপোল বন্দরে। এখানে পরীক্ষণ যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু পণ্য চালান আমদানির আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষণের সিদ্ধান্ত হটকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, আমদানি পণ্যের শতভাগ পরীক্ষণ বন্ধের সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। সেটা যেকোনো সময় আবার কার্যকর হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশিষ্টদের মধ্যে বৈঠকের দরকার রয়েছে। তা না হলে পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা আবার একই সমস্যার সম্মুখীন হতে

ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস অ্যান্ড স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র জানান, ‘বাংলাদেশের মতো পণ্য রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পেট্রাপোল বন্দরে নেই। ফলে এমনিতেই সেখানে সারা বছর পণ্য জট লেগেই থাকে। মালামাল আমদানি-রফতানিতে মারাত্বক সমস্যা হয়। ব্যবসায়ীরা শতভাগ পরিক্ষণে সমস্যার বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হলে তারা আপাতত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে পূর্বের নিয়মে পণ্য খালাস সচল রেখেছেন।

আরও পড়ুন- ভারতীয় কাস্টমসের নতুন নির্দেশনা, বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানিতে ধস নামার শঙ্কা

 

/এসএসএ/

লাইভ

টপ