ডিবি পরিচয়ে বাসচালককে পিটিয়ে হত্যা, দিনাজপুরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৪৫, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৩, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

 জালাল হোসেনের মরদেহে দিনজপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে দিনাজপুরের বাসচালক জালাল হোসেনকে হত্যার বিচার দাবিতে দিনাজপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি দুরপাল্লার কোনও বাস। সেইসঙ্গে ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে এই ধর্মঘট চলছে।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় বাসচালক জালাল হোসেনকে হত্যার প্রতিবাদে এই ধর্মঘট। হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘটের ফলে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। দিনাজপুর সদরের রামনগর এলাকার মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘রংপুরে যেতে হবে জরুরি কাজে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনও বাস ছাড়ছে না। এখন আমি কীভাবে যাবো, যেতে না পারলে অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে।’

আরেক যাত্রী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমতলী এলাকায় চাকরি করি। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছি কর্মস্থলে যাবো বলে। কিন্তু এখন দেখি বাস নেই। ইজিবাইকে করে যেতে যে সময় লাগবে, তাতে করে সঠিক সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে পারবো না।’

সোমবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি থানার শিকলবাহা এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর করায় বাস চালক জালাল হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি দিনাজপুর সদরের হেলেঞ্চাকুড়ি এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। শ্যামলী পরিবহনের চালক ছিলেন তিনি।

নিহতের পরিবার জানায়, ৩০ হাজার পিস ইয়াবা আছে, এই অভিযোগে জালাল হোসেনকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করে আহত করে ফেলে রেখে যায় ডিবি পরিচয় দেওয়া কয়েকজন। এ সময় বাসের সহকারী রাফিসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ও পরে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার (২৩ এপ্রিল) মরদেহ দিনাজপুরে নিজ বাড়িতে আনা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা তিন ভাই। বাবাকে হত্যা করা হয়েছে, মাকে নিয়ে এখন কীভাবে আমাদের দিন যাবে। পরিবার কীভাবে চলবে, আমি নিজেও প্রতিবন্ধী। বাবার হত্যার বিচার চাই এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের পরিবারকে সহযোগিতা করা হোক।’

নিহতের স্ত্রী ইরিনা খাতুন বলেন, ‘ওইদিন সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। গভীর রাতে ছেলে আমাকে বলে বাবা আর নেই। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। আমার স্বামীর কোনও দোষ নেই, কোনও অবৈধ কাজ করতো না সে। আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো। ডিবি হত্যা করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসটির সহকারী বগুড়া ধুপচাচিয়া উপজেলার অর্জুনগারী এলাকার মিঠু মিয়ার ছেলে রাফি (১৯) বলেন, ‘ওই দিন রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। এ সময় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন চালক জালাল হোসেনকে নামিয়ে নেয়। পরে তাকে মারধর ও নির্যাতন করে, এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

 আরও পড়ুন…

ডিবি পরিচয়ে বাসচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা

ডিবি পরিচয়ে বাসচালককে পিটিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট

 

 

 

/আইএ/

লাইভ

টপ