মান্দায় শতাধিক বিঘা জমিতে ধানের বদলে চিটা

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩২, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৮, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

বিএডিসি’র ব্রি-৬৩ জাতের ধান দেখে পাকা ধান মনে হলেও ভেতরে শুধু চিটা

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বিএডিসি’র ব্রি-৬৩ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়েছেন। মাঠে এই জাতের ধান দেখে পাকা ধানের ক্ষেত মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ধানের ভেতর কোনও চাল নেই। শীষে শুধুই চিটা।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম ও কশব ইউনিয়নসহ আশের পাশের বিস্তীর্ন এলাকার কৃষকরা চলতি বোরো মওসুমে বিএডিসি থেকে বীজ সংগ্রহ করে তাদের জমিতে ব্রি-ধান ৬৩ রোপণ করেন। ধানের গাছ বেশ ভালই হয়েছিল। কিন্তু যখন শীষ বের হতে থাকে তখনই কৃষকরা হতাশ। কারণ ধানের পরবর্তীতে শুধুই চিটা। প্রতিটি ধানের শীষে কেবল চিটা আর চিটা।

মান্দার মৈনম গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ধানের শীষে চিটা দেখে আমরা বার বার কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাই। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কিন্তু কোনও পরামর্শই কাজে আসেনি বলে তারা জানান।

কশব গ্রামের মামুনুর রহমান বলেন,‘এই এলাকায় যারা বিএডিসির ব্রি-৬৩ জাতের ধান চাষ করেছেন তাদের সকলেরই এক অবস্থা। আমরা সকলেই বিএডিসি নওগাঁ অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু এবার আমাদের ক্ষেতে কোনও ধান নাই।’

নওগাঁ বিএডিসির উপ-সহাকারী পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান কেবল বীজের বিক্রয় কেন্দ্র। বিভিন্ন উৎস থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে রক্ষাবেক্ষণ এবং যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণের পর কেবল কৃষকপর্যায়ে সরবরাহ করে। এ ক্ষেত্রে আসলে কি হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

মান্দার মৈনম ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উৎসব কুমার হাজরা বলেন,‘কৃষকদের কাছ থেকে জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করে করনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছি।’ আবহাওয়ার কারণে মাজরা পোকা এবং ব্লাস্টের অক্রমণে এমনটা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহবুবার রহমান বলেন,‘মান্দা এলাকায় ধানের এই বিপর্যয়ের কথা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুনেছি। আবহাওয়ার কারণে ধানের এমন অবস্থা হওয়া কথা নয়। গাছ ভালো হয়েছে, এক্ষেত্রে পরাগায়নের বিভ্রাট হতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।’

 

/জেবি/

লাইভ

টপ