ছাঁট পছন্দ না হওয়ায় পরীক্ষার হলে ছাত্রের চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক!

Send
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৯, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৯, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

পরীক্ষার হলে ছাত্রের চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক (ছবি– প্রতিনিধি)

চুলের ছাঁট পছন্দ না হওয়ায় প্রথমে পরীক্ষার হলে অপমানজনক কথা বলে ছাত্রকে মানসিকভাবে অপদস্ত করেন প্রধান শিক্ষক। এরপর কাঁচি এনে ওই ছাত্রের মাথার চুলও কেটে দেন তিনি। পরে ওই ছাত্র ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

গতকাল বুধবার (২৪ এপ্রিল) নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চুল কাটার এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিজয় মিয়া উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের পাহাড় উজিলাব এলাকার আবু তাহেরের ছেলে ও ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আফজাল হোসেন কাজল; তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ছাত্রের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার সকালে বিজয় দশম শ্রেণির প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর হল পরিদর্শনে আসেন প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজল। এসময় বিজয়ের চুলের ছাঁট পছন্দ না হওয়ায় প্রথমে তাকে অপমানজনক কথাবার্তা বলে মানসিকভাবে অপদস্ত করেন কাজল। এরপর অফিস রুম থেকে কাঁচি এনে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে এলোপাতাড়িভাবে বিজয়ের চুল কেটে দেন তিনি। এ ঘটনার পর এদিন বিকালে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বিজয় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজয়ের জ্ঞান না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এসময় চিকিৎসকরা তার ঘুমের ওষুধ খাওয়ার আলামত পান। বিজয় বর্তমানে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের বেডে বিজয় (ছবি– প্রতিনিধি)

বিজয়ের বাবা আবু তাহের বলেন, ‘আমার ছেলের মাথার চুল কাটার ধরন প্রধান শিক্ষকের পছন্দ না হলে তিনি তাকে আলাদাভাবে বলতে পারতেন। এমনকি, আমাদের অফিসে ডেকে নিয়ে তা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তার মাথার চুল কেটে দেন। এতে সে লজ্জা ও অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া আমাদের থানায় ডেকে নেন এবং প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আপস করিয়ে দেন।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজলকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য শিক্ষকরাও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বেলাব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. শ্যামল মিয়া বলেন, ‘ঘুমের অতিরিক্ত ওষুধ নেওয়ায় বিজয় জ্ঞান হারায়। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। প্রকাশ্যে সব শিক্ষার্থীর সামনে একজন ছাত্রের চুল কেটে নেওয়া রীতিমতো নির্যাতন। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি তা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ দেয়নি। তবে শুনেছি ওসি সাহেব প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজনকে আপস করিয়ে দিয়েছেন। আসলে এ ধরনের ঘটনা মীমাংসা হয়  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানার ওসির সমন্বয়ে।’

এ ব্যাপারে মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা আসলে আপস বলা যাবে না। ঘটনাটি শুনে আমি ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা ও প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। কারণ প্রধান শিক্ষক যা করেছেন তা অন্যায়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা কোনও অভিযোগ দিতে চাননি; তাই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর মনে হয়, ওই শিক্ষকই অভিভাবকদের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন।’

 

/এমএ/

লাইভ

টপ