স্কুল ড্রেস আর পাঁচ টাকা থাকলেই অন্নপূর্ণা হোটেলে মেলে দুপুরের খাবার

Send
দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
প্রকাশিত : ১০:৩৭, মে ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৩, মে ০৯, ২০১৯

গায়ে স্কুল ড্রেস আর পকেটে পাঁচ টাকা থাকলেই দুপুরের খাবার পাওয়া যায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকার ‘অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ। শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের তিন বছর ধরে এ সেবা দিয়ে আসছেন হোটেল মালিক আড়ানী এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব সরকার।

জানা গেছে, সংসারের অভাব-অনটনে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন শ্যামল সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার। এরপর বাবার পথ ধরে রেস্টেুরেন্টের ব্যবসায় নামেন তিনি। পাশাপাশি লেপ-তোষকেরও দোকান রয়েছে তার।

আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের দূরত্ব ১০০ গজ। দুপুরে হোটেলে বসার সময় বিপ্লব দেখতেন ওই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী টিফিন নিয়ে আসতো না। অনেকের আবার বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই। তারা স্কুলে এসে টিফিনের সময় আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু একটা কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। অথচ দুপুরে এক প্লেট ভাত খেতে পারলে তাদের শরীর ভালো থাকে। এই চিন্তা থেকেই বাবার অগোচরে পাঁচ বছর আগেই বিপ্লব এই প্যাকেজ চালু করেন তিনি। তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা এই হোটেলে খেতে আসতে শুরু করে। তবে তার বাবা দুই বছর পর বিষয়টি জানতে পারেন।

জানা গেছে, টিফিনের সময় আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় ও আড়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০-৮০ শিক্ষার্থী দুপুরে এই হোটেলে পাঁচ টাকার প্যাকেজের খাবার খায়। এই প্যাকেজে শিক্ষার্থীদের ভাত, ডাল, ভাজি ও ভর্তা দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে মাছ-মাংসও দেওয়া হয় পাঁচ টাকার প্যাকেজে। তবে শর্ত একটাই, শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসে আসতে হবে।


এ ব্যাপারে অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক বিপ্লব সরকার বলেন, ‘সকালে বিদ্যালয়ে এসে অনেকেই টিফিনে বাড়িতে যেতে না পারায় হোটেলে শিঙ্গাড়া ছাড়াও তেলজাতীয় খাবার খেতে আসতো, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই তাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে শিঙ্গাড়া বাদ দিয়ে ভাত-সবজি খাওয়ানোর পরিকল্পনা করি। পরে তাদের জন্য এই প্যাকেজ চালু করি।’

বিপ্লব সরকার আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক পরা থাকলেই পাঁচ টাকার বিনিময়ে দুপুরের এই খাবার খেতে পারবে। তবে দুপুর ছাড়া অন্য সময় আসলে এই মূল্যে খাবার দেওয়া হয় না।’

বিপ্লব সরকারের বাবা শ্যামল সরকার বলেন, ‘ব্যবসার লাভ-লোকসানের কথা ভেবে প্রথমে ছেলেকে অনেক বকাবকি করেছি। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি সব জায়গায় লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ করা যাবে না। ছেলের এ ধরনের উদ্যোগে আমি গর্বিত। এখানে অনেক গরিব পরিবারের ছেলেমেয়ে আছে। তারা সংসারের অভাবের কারণে ঠিকমতো খাবারও খেতে পায় না। তারা অল্পমূল্যে এই খাবার খেয়ে যেন স্কুলমুখী হয়ে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়। তখনই আমার ছেলের উদ্দেশ্য সফল হবে।’

আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী বিপ্লব সরকারের দোকানে দুপুরের খাবার খায়। এটা তার প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ