গাজীপুরে একটি এমএলএম কোম্পানির গোপন কক্ষ থেকে ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করেছেন র্যাব-১ এর সদস্যরা। এমএলএম ব্যবসার নামে তাদের জিম্মি করা হয়। ওই কোম্পানির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। শুক্রবার (১০ মে) বিকালে র্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এসব তথ্য জানান।
র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা জানতে পারি লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রা.) লি. নামে একটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গাজীপুরে ব্যবসা করছে একটি প্রতারক চক্র। তারা কয়েকজনকে জিম্মি করেছে এবং মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে বলে খবর পাই। গোপন সূত্রে জানতে পারি, এই চক্রের সদস্যরা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তার সিয়াম সিএনজি ফিলিং স্টেশন এলাকায় অবস্থান করছে। এ সময় আমার নেতৃত্বে র্যাবের একটি টিম ওই এলাকার হাফিজুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালাই। সেখান থেকে প্রতারক চক্রের ২০ জনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়ির দু’টি গোপন কক্ষ থেকে ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাত হাজার ষাট টাকা ও ১৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।’
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জিজ্ঞাসাবাদে শিকার করেছে। মানুষের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইফওয়ে বাংলাদেশ (প্রা.) লি. নামে প্রতিষ্ঠান চালু করে তারা প্রতারণা করে আসছে। তারা অনেককে গোপন কক্ষে বন্দি করে অভিনব কায়দায় প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
উদ্ধার ব্যক্তিরা হলো—চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানার দক্ষিণ ভোড়াদাড়ি গ্রামের কাজল প্রধানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন (২৪), একই থানার পশ্চিম পিংড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে তানজিদ হোসেন (২১), পাঁদপুর সদর থানার ধনপুদ্দি গ্রামের মিজান খন্দকারের ছেলে বাবু খন্দকার (২২) ও শামীম খন্দকার (২০), ওই থানার দাসদী গ্রামের ইসমাইল খানের ছেলে বিল্লাল খান (১৮), ওহাব খানের ছেলে শাকিল হোসেন (২০), নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. নাহিদ হাসান (২১) ও রশিদ পাটোয়ারীর ছেলে সানা উল্লাহ পাটোয়ারী (২৩), আমানউল্লাহপুর গ্রামের খোকন গাজীর ছেলে জুয়েল মিয়া (১৮), খেরুদিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুছ সালাম (১৯), হাজীগঞ্জ থানার বানিয়াকান্দা গ্রামের শাহজাহান কবিরের ছেলে শাহাদাত হোসেন (৩২), সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার চাঁদনীমুখা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে আকরাম হোসেন (২০) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামের ভবেশ চন্দ্রের ছেলে তন্ময় কুমার (২২)।
আটক ব্যক্তিরা হলো—কিশোরগঞ্জ সদর থানার ঘাগলাইল গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৩০), রাজশাহীর বাঘা থানার মীরগঞ্জ গ্রামের সিরাজুল ইসলানের ছেলে মামুনুর রশিদ (৩০), চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ধুতুরহাট গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৫), জামালপুর সদরের কোটামনি গ্রামের মৃত আব্দুছ সোবহানের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৮), কুষ্টিয়ার কন্দরপ্রদীয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে আশরাফুল আলম (২৯), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার সোনাকানিয়া গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে তৈয়াবুর রহমান (২৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বালুবাগান এলাকার সাদিকুল ইসলামের ছেলে মাসদিদ (২১), মহনপুর গোরস্থানপাড়া এলাকার একরামুল হকের ছেলে সোহেল রানা (১৯), চড়াগ্রাম বিন্দুপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে কাউসার আলী (২৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জ গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সাজিদুল ইসলাম (২২), নতুন হাট এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে রজব আলী (২৩) ও বাগানপাড়া এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে মোস্তাকিম (২৫), একই জেলার দেবীনগর থানার কলিকাতা এলাকার কাউসার আলীর ছেলে আতাউর রহমান (১৯), গোমস্তাপুর থানার বিবিসন গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মেসবাউল হক (২০) ও ভোলাহাট থানার হাসপুকুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আরিফ হোসেন (২৪), কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নবীয়াবাদ গ্রামের স্বপন সরকারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সুমন (২২), চাঁদপুর সদর থানার আমানুল্লাহপুর এলাকার শাহ আলম বেপারির ছেলে শাহাদত হোসেন (১৯) ও বিধিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে পিয়ারুল ইসলাম (২৫), ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বিজয়নগর থানার আনন্দগ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে কাউসার আলম (২০) এবং জয়পুরহাট সদরের হাতিল গাড়িয়া কান্ত গ্রামের নাজির রহমানের ছেলে কাউসার রহমান (২৪)।








