শ্রীমঙ্গলে অবাধে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে পরিবেশ

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪১, মে ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, মে ১১, ২০১৯

বালু উত্তোলনমৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বসতঘরও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি সাধারণ বালু ও ২৮টি সিলিকা বালুসহ মোট ২৯টি বালুর মহাল রয়েছে। এরমধ্যে বড়ছড়া, ঝলমছড়া, ভুরভুরিয়া ছড়া, জৈনকাছড়া, খাইছড়া, শাওনছড়া, নুলুয়াছড়া, পুটিয়াছড়া, হুগলিছড়া, গান্ধিছড়া ও আমরাইলছড়াসহ ৫-৬ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলনে ইজারা বন্দোবস্ত নেই।

অথচ উপজেলাজুড়ে পাহাড়ি ছড়া, ছোট নদী ও ফসলি জমি থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। উচ্চ আদালতে পরিবশেবাদী সংগঠন বেলা মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট  করেন। যার ফলে শ্রীমঙ্গলে বালু মহালের ইজারা বন্দোবস্ত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু, ইজারা বন্দোবস্ত না থাকলেও বালু উত্তোলন থেমে নেই। এতে গত ৫-৬ বছরে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার ভূনবী ইউপির জৈতা ছড়ার দুপাশ ঘেঁষে শাসন, ইসলামপাড়া ও ইছামতি গ্রাম এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ইসলামপাড়া এলাকার দয়াল মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া ও ইদ্রিস মিয়ার ছেলে কবির মিয়ার অভিযোগ, ‘বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি ও কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে। বার বার অভিযোগ করা হলেও প্রশাসন থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এসব বালু মহাল থেকে সরকারি দলের নেতারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জৈতা ছড়ার দু-পাশে নোম্যান্সল্যান্ড ও ব্যক্তি মালিকানা জমিতে পুকুর সমান গর্ত করে মেশিন লাগিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ভূনবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. চেরাগ আলী। এই বালু মাটির বেচা-কেনার মূলহোতা তিনি ও তার ছেলে কাউছার আলী। নো নোম্যান্সল্যান্ড ও স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের মালিকানা জমি থেকে অল্প দামে এসব বালু মাটি কিনছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান চেরাগ আলী ছাড়াও সাতগাঁও এলাকার কবির মোল্লা, কদর আলী, আসলম মিয়া, ঠান্ডা মিয়া, মতলিব, আবু নাঈম, সিদাম, সামছু, জমির আলী, ইমান আলী, মুসাহিদ মিয়া, উজ্জল মিয়া, সাদ্দাম, মুকাইদ, ইয়াবর মিয়া, জামাল মিয়া, দুদু মিয়া, ইব্রাহিম আলীসহ রাজনৈতিক নেতারা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

ইউপি চেয়ারম্যান চেরাগ আলী বলেন, ‘আমি ছড়া থেকে বালু উঠাই না। জমির মালিকদের কাছ থেকে বালু মাটি কিনে অন্য জায়গায় বিক্রি করি।’

একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতি করে কিভাবে অবৈধ বালু ব্যবসা করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান চেরাগ আলী বলেন ‘হ্যাঁ এতে ক্ষতি হচ্ছে, তবে এখানে বালুর সঙ্গে বড় বড় লোকজন জড়িত আছেন।’

বড় বড় লোকজন কারা জড়িত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সবই জানেন। আমাকে জিজ্ঞেস করেন কেন?’

বালু ব্যবসায়ী মোছাব্বির মিয়া বলেন, ‘শুধু আমি নয় এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও জড়িত আছেন। উপজেলা যুবলীগের নেতা শিপলু সিন্ডিকেট করে আমাদের বালু উত্তোলনের করে দিচ্ছেন। এ সিন্ডিকেটে আমি প্রতি মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা দেই।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সদস্য বদরুল আলম শিপলু বলেন, ‘আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। কেউ যদি আমার নাম উদ্দেশ্যমূলকভাবে যুক্ত করে রাখে, তাহলে আমার কিছু করার নেই।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলম জানান, ‘ইউএনও’র নির্দেশে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ট্রাক ও তিনটি বালু তোলার কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনচালিত মেশিন জব্দ ও বেশ কিছু পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন ‘এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নিয়মিত ধরছি ও জেল জরিমানাও হচ্ছে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাহেদা বেগম বলেন, ‘হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বে যারা বালু উত্তোলন ও আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, তারা সবাই আদালত অবমাননা করছেন।’

 

 

 

 

/এনআই/

লাইভ

টপ