শ্রীমঙ্গলে তেলের ডিপো ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান পাশাপাশি, অগ্নিঝুঁকি

Send
সাইফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ০৭:৫৮, মে ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০২, মে ১২, ২০১৯





তেলের ডিপো ও গ্যাসের সিলিন্ডারের দোকানের পাশাপাশি অবস্থান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের ভানুগাছ সড়কে পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি বড় জ্বালানি তেলের ডিপোর সামনেই রয়েছে কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। যার ফলে সেখানে যেকোনও সময় অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নামের এই তিন ডিপোর আশপাশের দোকানপাট এক কিলোমিটার দূরে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে সেই নির্দেশ পালন করা হয়নি।


ডিপো সূত্রে জানা গেছে, পাশাপাশি অবস্থানে থাকা ডিপো তিনটিতে পেট্রোল ধারণ ক্ষমতা ৮ লাখ ৬৬ হাজার লিটার, অকটেন ৯ লাখ ৮৫ হাজার লিটার, ডিজেল ১৯ লাখ ২৭ হাজার লিটার ও কেরোসিন ধারণ ক্ষমতা ১৩ লাখ ৯ হাজার লিটার।
যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোর পাশের পদ্মা পেট্রোলিয়াম ডিপোর সঙ্গেই রয়েছে ওয়েল্ডিং কারখানাসহ সিগারেটের দোকান। এখানে কোনও কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পুরো শহর ভষ্মীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন ইয়ার্ডে কনটেইনার ভর্তি জ্বালানি তেল খালাসের অপেক্ষায় থাকে। এই স্থানের পাশেই রয়েছে মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো। আর এসব ডিপোর সামনে মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানে সব সময় মজুদ থাকে এলপি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডের পাশে এবং মার্কেটে বড় গোডাউন করে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারশিপ নিয়োগের অন্যতম শর্ত হলো, তেল ডিপোর কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বে গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম ও শো-রুম করতে হবে। তবে এই শর্ত মানছেন না অনেকেই। এছাড়া ১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে দোকানে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখার কথা থাকলেও তাও নেই কোনও দোকানে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার জন্য যে কয়টি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে, সবগুলোর ঠিকানা হবিগঞ্জ রোড, যা তেল ডিপোগুলোর থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে। কিন্তু হবিগঞ্জ সড়কের নামে লাইসেন্স ইস্যু করিয়ে মেঘনা ডিপোর সামনে ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে চারটি প্রতিষ্ঠান।
তেলের ডিপো ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানের পাশাপাশি অবস্থান সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের বাইরে ব্যবসা করা লাভজনক না হওয়ায় ডিপোর আশপাশেই দোকান খুলেছেন তারা।
তবে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মো.মুকিত মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে।
পদ্মা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো সুপার মো.ইকবাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাসখানেক আগে আমার ডিপোর পাশে জাহের ট্রের্ডাস নামে একটি দোকানে আগুন লেগেছিল। আমরা দ্রুত দৌড়ে গিয়ে ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে আগুন নেভাই। ডিপোর পাশে এই ধরনের দোকানপাট থাকা ঠিক না। ওইসব দোকানে আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামও মজুদ নেই।’
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সিলেট বিভাগের সিনিয়র সেলস অফিসার মো. আনেয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিপোর নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব ডিপো সুপারের। তিনি কোথাও নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।’
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সির্ভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো.আজিজুল ইসলাম রাজন বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে দোকানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ডিপোর পাশে অবস্থিত দোকানগুলোতে গিয়ে দেখেছি, তাদের ফায়ার ও বিস্ফোরক লাইসেন্স আছে। তবে লাইসেন্সের বিধান হলো, যে এলাকার ঠিকানা থাকবে সেখানেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে যে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তেলের ডিপোর আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত যাতে দোকানগুলো অপসারণ করা যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।’
মৌলভীবাজার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

/এএইচ/

লাইভ

টপ