অবশেষে ফেনী ছাড়লেন এসপি জাহাঙ্গীর

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:১২, মে ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১২, মে ১৪, ২০১৯

পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারমাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অবশেষে ফেনী ছাড়তে হলো পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে। সোমবার (১৩ মে) রাতে তিনি ফেনী পুলিশ সুপারের বাংলো ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রাওনা দেন। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় এসপি জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। একই রাতে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তিনি।
সূত্র জানায়, এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ফেনীর পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। ২২তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হন এই কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামে। চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু তার। পরে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ছিলেন।
পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী থানার ওসিকে বাঁচাতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয় পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। মামলার এজাহার নিয়েও কূটচাল চালিয়েছিল। ঘটনার দিন (৬ এপ্রিল) পুলিশ সদর দফতরে মৌখিক বার্তায় এসপি এটাকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিলেন। লিখিত রিপোর্টেও তিনি একই কথা জানিয়েছেন। ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটি।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল আহমদকে খাগড়াছড়ি জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। সবশেষ প্রত্যাহার করে সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয় পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর সরকারকে।
প্রসঙ্গত, নিহত নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম শ্রেণির আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরিহিত কয়েকজন। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।

/এআর/

লাইভ

টপ