দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু ২৫ মে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Send
আমির হুসাইন স্মিথ,নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১৯:২৪, মে ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৬, মে ১৭, ২০১৯

দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু

নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগে ঢাকা-চট্রগাম মহসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুন উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও একই সময়ে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুও উদ্বোধন করা হবে।

শুক্রবার (১৭ মে) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রালয়ের জ্যেষ্ঠ গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু গত মার্চ মাসে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি দুটি, মেঘনা এবং মেঘনা-গোমতী সেতু আগামী ২৫ মে উদ্বোধনের জন্য সময় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই রুটের যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, সেতু দুটি খুলে দেওয়া হলে ঈদ মৌসুমে কোনও ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, চার লেন বিশিষ্ট ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে এসে একলেনে উঠতো। পুরাতন সেতুটি বেশি ঢাল এবং যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের আটকা পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের।

দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু

মেঘনা-গোমতী সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, ১৪শ’ ১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থ দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু ১৬টি পিয়ার ও দুই পাশে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতু পুণঃনির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ৪শ’ কোটি টাকা। দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে পুরাতন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান  তিনটি সেতু পুণঃনির্মাণের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’  

মেঘনা-গোমতী সেতুর আবাসিক প্রকৌশলী কবির আহমেদ জানান, ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার বেশ কয়েকমাস আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান সেতুর সংস্কার কাজ শেষ হবে। জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর এই সেতু নির্মিত হয়েছে। এই ধরণের এটি বাংলাদেশ প্রথম সেতু। এর আগে ভিয়েতনাম ও জাপানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। 

মেঘনা-গোমতী সেতুর প্রকৌশলী আমিনুল করিম জানান, ১ হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর ১৬টি পিয়ারের মধ্যে ৬টি পিয়ার এসপি এসপি পাইলের মাধ্যমে পুরাতন সেতুর সঙ্গে নতুন সেতুটি অ্যাটাস্ট করা হয়েছে। বাকিগুলো করা হয়েছে কাস্টিং সি-টু-পাইলের মাধ্যমে। প্রতিটি পাইলিং ৭৬ মিটার বোরিং করা হয়েছে। নতুন সেতুতে মাত্র একটি জয়েন্ট এক্সপানসন রয়েছে। যে কারণে সেতুতে গাড়ি চলবে বিমানের রানওয়ের মতো। এছাড়া পুরাতন সেতুর ১৭টি এক্সপানসন জয়েন্ট বাদ দিয়ে একটি জায়েন্ট এক্সপানসন রাখা হবে।  এতে করে পুরাতন সেতুতেও একই গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। 

আরও খবর: নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলে দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, খুশিতে চালক ও যাত্রীরা 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ