গাজীপুরে অগ্নিঝুঁকিতে দুই শতাধিক পোশাক কারখানা

Send
রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
প্রকাশিত : ০৭:৫৫, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৮, মে ১৮, ২০১৯

গাজীপুরের দুই শতাধিক কারখানা ও ভবন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এসবে অগ্নি প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সচেতনতামূলক পোস্টার ব্যানার সাঁটিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছাড়াও লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ও ভবনগুলোতে পোস্টার ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে অগ্নিঝুঁকি কমাতে এবং ত্রুটিপূর্ণ ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।
গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকার ওয়াসিফ নিট কম্পোজিট লিমিটেড, হাবিবুল্লাহ ভবনের মে ফ্যাশন লিমিটেড, পেয়ারা বাগান এলাকার সাসটেক্স বিডি লি., চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশন ও রহমান শপিং মলে অগ্নিঝঁকিপূর্ণ ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অধিকাংশ ব্যানারই খুলে বা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। উল্টো মালিকপক্ষ বলছেন, তারা অগ্নিনিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক কারখানাগুলোতে স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। পানির পাম্প, গ্যাস মাস্ক, ডিটেক্টর, আলাদা বহির্গমন পথ, ভবনের ওপরে ও নিচে সংরক্ষিত পানি, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনেক প্রতিষ্ঠানেই রাখা হয় না। কোথাও কোথাও লোক দেখানো দু’একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ঝুলানো থাকলেও এসবের বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় আগুনের ভীতি নিয়েও জীবনের তাগিদে, সংসারের প্রয়োজনে নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করছেন তারা।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিএডি) আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক ভবন মালিকেরা আইন মেনে ভবন তৈরি করেননি। যেগুলো অগ্নি আইন না মেনে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো তৈরি করা হয়েছে। বার বার চিঠি দিয়েও তাদের সাড়া পাচ্ছে না ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। এই জেলা ও মহানগরের প্রায় ৮০ ভাগ শিল্প-কারখানায় অগ্নিঝুঁকি মুক্ত হলেও বাকি ২০ ভাগই এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তৈরি করতে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের কথা শুনছে না ভবন মালিকেরা। এমনকি একাধিক ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যানার ঝুলিয়েও ভবন মালিকদের সচেতন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পরিদর্শন করে কয়েকটি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে, সেখানে ঝঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বহুতল ভবন নির্মাণের পর ফায়ার সার্ভিস থেকে অগ্নিঝুঁকি নেই এমন ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনেক বহুতল ভবনে নেই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। আবার অনেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ঠিকই কিন্তু নেই আগুন নেভানোর সরঞ্জাম। ভবন নির্মাণের সময় অনেক ভবন মালিক ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র গ্রহণ করলেও অগ্নিপ্রতিরোধ, নির্বাপণ ও নিরাপত্তায় ভবনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখেননি। এসব কারণে প্রায় প্রতিবছর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মারা যাচ্ছে শ্রমিক আর পুড়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নিয়মের মধ্যে এনেই সব পোশাক কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে হবে, অগ্নিঝুঁকি মুক্ত করতে হবে।’

/এআর/

লাইভ

টপ