ঈদকে ঘিরে পাইকারি ক্রেতার ভিড়ে সরগরম বাবুরহাট

Send
আসাদুজ্জামান রিপন, নরসিংদী
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৫, মে ১৮, ২০১৯

বাবুরহাট পাইকারি বাজারআসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারাদেশের পাইকারি ক্রেতার ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম দেশীয় কাপড়ের পাইকারি মার্কেট নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট। রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই কাপড়ের বাজারে বেচাকেনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বৃহস্পতিবার-রবিবার পর্যন্ত চার দিনের সাপ্তাহিক হাটে প্রতি সপ্তাহেই দেড় থেকে দুইশ কোটি টাকা বেচাকেনা হলেও ঈদ উপলক্ষে তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি বাকির হোসেন।

শুক্রবার (১৭ মে) সরেজমিন শেখেরচর-বাবুরহাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারের পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য গাড়িতে বোঝাই করা হচ্ছে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিসসহ দেশীয় সবধরনের কাপড়ের গাইট (আঁটি)। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতার ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজারটি। পছন্দ অনুযায়ী নতুন নতুন ডিজাইনের কাপড় সংগ্রহ করতে দোকানে দোকানে কেনাকাটায় ব্যস্ত পাইকারি ক্রেতারা। বাজারের প্রতিটি গলিতে কাপড় আনা নেওয়ায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। অনেকে এসেছেন পাইকারি দামে জাকাতের জন্য কাপড় কিনতে। পাশাপাশি ভিড় করছেন খুচরা ক্রেতারাও।বাবুরহাট পাইকারি বাজার

বিক্রেতারা জানান, বাজারটিতে ছোট-বড় প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে। এসব দোকানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, থান কাপড়, বিছানার চাদর, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড় ও গামছাসহ দেশীয় প্রায় সবধরনের কাপড়ের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও কাপড়ের ডিজাইনে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশীয় এই কাপড়ের বাজারটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতারা আসতে শুরু করায় পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। দেশের কাপড় উৎপাদনকারী প্রায় সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাধিক শোরুম রয়েছে এখানে। এসব বস্ত্র কোম্পানির বেশিরভাগ কারখানাও নরসিংদী জেলা কেন্দ্রিক। ফলে এখানকার উৎপাদিত কাপড়ের গুণগত মান ভালো হওয়ার পাশাপাশি দামেও সাশ্রয়ী। দেশের অন্যান্য স্থানে প্রস্তুতকৃত যাবতীয় কাপড়ও পাওয়া যায় এখানে। চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের দেশীয় কাপড় সহজলভ্য হওয়ায় এই হাট ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতাদেরও অনেক আগ্রহ।বাবুরহাট পাইকারি বাজার

পাইকারি বিক্রেতা শেখ মোহাম্মদ রুমন বলেন, ‘মূলত রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঈদের কাপড় কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা আসছেন। এ বছর বেচাকেনা সন্তোষজনক।’

অপর বিক্রেতা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ বছরও ঈদ উপলক্ষে কাপড়ের ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। দামও আগের মতো আছে, খুব একটা বাড়েনি।’বাবুরহাট পাইকারি বাজার

প্রিন্ট ও একরঙা গজ কাপড় বিক্রেতা বাবুল আহাম্মেদ বলেন, ‘শাড়ি, গজ কাপড়ের বেচাকেনা আগেভাগেই হয়। পাশাপাশি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রিপিসের বেচাকেনা চলে ঈদের আগের সপ্তাহ পর্যন্ত।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে আসা খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘খুচরা বাজারে এখনও পুরোদমে কেনাকাটা শুরু হয়নি। দোকানের জন্য বাবুরহাট থেকে পাইকারি দামে ঈদের কাপড় কেনার জন্য এসেছি।’বাবুরহাট পাইকারি বাজার

ঢাকার উত্তরা থেকে আসা ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘জাকাতের কাপড় কেনার জন্য এখানে এসেছি। ঢাকার তুলনায় এখানে দামটা কম হওয়ায় এখানে কেনাকাটার জন্য আসি।’

শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি বাকির হোসেন বলেন, ‘বাজারটিতে নিয়মিত (বৃহস্পতিবার-রবিবার পর্যন্ত) সাপ্তাহিক হাটে দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকা বেচাকেনা হলেও ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়। এ বছর ঈদ উপলক্ষে সন্তোষজক বিক্রির কারণে ব্যবসায়ীরা  খুশি। ঈদ উপলক্ষে দিন ও রাতে এই হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’বাবুরহাট পাইকারি বাজার

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম জামেরী হাসান বলেন, ‘বাবুরহাট একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। জাতীয় অর্থনীতিতে বাজারটির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এখানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ সরু রাস্তাঘাটের কিছু সমস্যা রয়েছে। সারাদেশ থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার্থে বাজারটির আধুনিকায়ন ও সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা সদস্য ও বণিক সমিতি নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবীরা।’

 

 

 

 

 

 

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ