সাবেক নেতার আঙুল কাটায় কলারোয়া ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

Send
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৩৫, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৫, মে ১৮, ২০১৯

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা নেওয়া হয় তুষারকে

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম তুষারের ডান হাতের চার আঙুল কাটার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান।   

শনিবার (১৮ মে) কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় আহত তুষারের চাচা আবু সিদ্দিক ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তুষারের বাবা মুনসুর গাজী জানান, কলারোয়া উপজেলার পাটুরিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে মন্টুদের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইসের নেতৃত্বে মন্টু, পলাশ, জুয়েলসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী তুষারকে পিটিয়ে আহত করে। এরই এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে তার ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে নেয় নাইস।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আহত তুষার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সে আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। তার আঙুল কাটার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নির্দেশে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছাত্রলীগের কর্মী ইমাম, মন্টু ও বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান নাইস ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

আহত তুষারকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

এদিকে তুষারের আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান নাইস।

তিনি বলেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিএম তুষারের সঙ্গে একটি জমির ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বেলা একটার দিকে কলারোয়া ইসলামী ব্যাংকের সামনে সাবেক নেতা তুষার ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গণ্ডগোল হয়। এসময় উভয় পক্ষের ২-৩ জন আহত হন। পরে তুষার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী বেলা দেড়টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তুষারের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কথা বলতেই হঠাৎ লোহাকুড়া গ্রামের বাবু দা দিয়ে তুষারকে কোপ দেয়। তুষার হাত দিয়ে তা ঠেকাতে গেলে তার ডান হাত কেটে যায়। বাবু ছাত্রলীগের কেউ নয়। সে জামায়াত পরিবারের সদস্য।’ 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ