পাটকল শ্রমিকদের বাকি দিয়ে অর্থ সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:০৬, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৯, মে ১৯, ২০১৯

পুঁজি সংকটে দোকানে পণ্য কম

খুলনার খালিশপুরের চাল দোকানদার আব্দুল হালিম। পাটকলের পাশেই তার দোকান। তিনি বলেন, ‘কথায় আছে, অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের অবস্থা তেমন। তারা মজুরি না পেতে পেতে ভুলেই গেছে কবে টাকা পেয়েছিল। আর বাকিতে চাল দিতে দিতে এখন আমার পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। তারপরও মনে হয় শ্রমিকদের জন্য যদি কিছু করতে পারতাম।’

পাটকল শ্রমিকদের বাকিতে পণ্য দিয়ে শুধু আব্দুল হালিম নয়, শিল্পাঞ্চলে তার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্থ সংকটে পড়েছেন। অনেকেরই মূলধন শেষ। ফলে অনেকের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মুদি দোকানদার আব্দুস সাত্তার বলেন, তার পুঁজি মাত্র ৩ লাখ টাকা । গত তিন মাসে তিনি শ্রমিকদের বাকিতে চাল ডাল বিক্রি করেছেন ৫ লাখ টাকার। দুই লাখ টাকা তিনি মোকাম আড়তদারদের কাছে দেনা। এখন তার দোকানে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এভাবেই খুলনার পাট শিল্পাঞ্চলের মানুষ আবারও শেষ হতে বসেছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবু হানিফ বলেন, ‘আমরা সাধারণ শ্রমিক। আমাদের কাজ উৎপাদন দেওয়া আর সপ্তাহ শেষ মজুরি নিয়ে পরিবারের তদারকি করা। গত তিন মাস মজুরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

প্লাটিনামের শ্রমিক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘রমজান মাস সাধারণ মানুষের প্রতি দয়ামায়া দেখানো ইসলাম ধর্মের কথা হলেও বর্তমান সরকারের সব দফতর যেন পাটকল শ্রমিকদের প্রতি পাথর হয়ে বসে আছে।’

খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পরজনমে যেন স্রষ্টা আমাদের কাউকে আর পাটকল শ্রমিক করে না পঠান।’

পাটকলের পাশে থাকা দোকান বন্ধ হয়ে গেছে

বকেয়ার দাবিতে খুলনা অঞ্চলে পাটকল শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন। পাটকল শ্রমিক লীগ নেতা মুরাদ হোসেন জানান, বকেয়ার দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা কর্মবিরতির পালন করছেন। শ্রমিকদের ১০-১৩ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। টাকার অভাবে অর্ধাহার-অনাহারে শ্রমিকদের জীবন কাটাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের আহ্বায়ক সোহরান হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ এপ্রিল বিজেএমসিতে বৈঠকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়ছিল। তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। শ্রমিকরা সময়মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় বকেয়া একসঙ্গে প্রদান না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবো আমরা।’

প্রসঙ্গত, পাটখাত প্রয়াজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশাধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহালসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন প্রদান এবং ১৮ মের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেয়। ২৫ এপ্রিল এসে এক সপ্তাহ সময় নেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২ মেও মজুরি না দেওয়ায় ৫ মে থেকে মিলে উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ মে থেকে সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে এ কর্মসূচি একযোগে শুরু হয়।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ