ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ বছর শিকলবন্দি প্রতিবন্ধী শিশু

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪১, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫০, মে ১৯, ২০১৯

এভাবেই সাত বছর শিকলবন্দি ছিল প্রতিবন্ধী শিশুটিব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ায় খুপরিঘরে এক প্রতিবন্ধী শিশুকে শিকলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল প্রায় সাত বছর। জন্মের কিছুদিন পর অসহায় ওই শিশুটির মা-বাবা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এর পর থেকে শিশুটিকে দরিদ্র দাদি শিকলে বেঁধে রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করে প্রতিপালন করছিলেন।  শনিবার (১৮ মে) দুপুরে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। পাশাপাশি শিশুটিকে দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা তার অসহায় দাদিকেও পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।

শিশুটির দাদি শাহানা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জন্মের পর থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই শিশু ও তার মাকে রেখে থেকে সাত বছর আগে নিরুদ্দেশ হন শাহানার ছেলে রিপন মিয়া। পরে প্রতিবন্ধী শিশু এবং পুত্রবধূকে নিয়ে মাঝবয়সী শাহানার ঠাঁই হয় শহরের মৌলভীপাড়ায় জরাজীর্ণ একটি হাউজিং কোম্পানির খুপরিঘরে। একপর্যায়ে প্রতিবন্ধী সন্তান-শাশুড়িকে ফেলে চাকরির কথা বলে অন্যত্র চলে যায় পুত্রবধূ মোমেনা। এরপর থেকে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে শিকলে বেঁধে রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করে মানবেতর জীবন যাপন শুরু করেন শিশুটির দাদি শাহানা বেগম।

প্রতিবেশী স্বরুফা বেগম জানান, প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ফেলে শিশুটির বাবা-মা উভয়েই অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। এর পর থেকে শিশুটির ঠাঁই হয় অসহায় দরিদ্র দাদির কাছে।

অপর প্রতিবেশী আল আমিন মিয়া জানান, শিশুটির বন্দিদশা দেখে শহরের পৈরতলা এলাকার ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে শিশুটিকে ঢাকা থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনেন। তবে শিশুটি চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসার পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। করে যাচ্ছি। আসলে এভাবে শিকলে বন্দি করে শিশুটির চিকিৎসা সম্ভব নয়। সে মানসিক প্রতিবন্ধী তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। গরিব অসহায় দাদির পক্ষে তা সম্ভব নয়।’ তিনি শিশুটির শিকল মুক্তির পাশাপাশি দরিদ্র দাদি শাহানার পুনর্বাসনের দাবি জানান।

শিশুটিকে উদ্ধারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল কবীর বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে বন্দিদশা থেকে শিশুটিকে মুক্ত করেছি। পাশাপাশি শিশুকে প্রতিপালন করা দাদির অসহায়ত্বের কথা শুনেছি।’ এ সময় প্রতিবন্ধী শিশু ও তার দাদিকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে অমানবিক এই ঘটনা জানার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিমাসে শিশুটির চিকিৎসার খরচ বহনের ঘোষণা দেন।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ