যেসব কারণে মাগুরায় বোরো ধানের দাম কম

Send
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:০৭, মে ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৯, মে ২১, ২০১৯

বোরো ধানের জমি (ফাইল ছবি)

বোরো ধানের ভরা মৌসুম চলছে। মাগুরার কৃষকরা প্রতিমণ ধান বিক্রি করছেন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, অথচ মণপ্রতি উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। কৃষকদের এই অবস্থার জন্য অনেকগুলো কারণকে দায়ী ভাবছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। কারণগুলো হলো- মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ, সরকারি সংগ্রহ অভিযানে বিলম্ব, অপ্রয়োজনে ধান আমদানি, কৃষি ঋণের অপ্রতুলতাসহ বেশ কিছু কারণ।

বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের কৃষকের বেশিরভাগই প্রান্তিক পর্যায়ের। চাষের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ জোগাতে তাদের অনেকেরই চড়া সুদে টাকা নিতে হয় সুদখোর মহাজনের কাছ থেকে। ধান উঠতে না উঠতেই মহাজনের পক্ষ থেকে কৃষকের ওপর শুরু হয় অব্যাহত চাপ। দেনার ভার মেটানোর জন্য ধানের বাজারমূল্য যাচাই বা ধান সংরক্ষণ করে পরে উপযুক্ত সময়ে বিক্রির সুযোগ পায় না কৃষকরা। তাই নামমাত্র মূল্যেই তারা বিক্রি করে ধান।

জানা গেছে, সরকার বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ধান চাল সংগ্রহ করলেও তার সুফল পাচ্ছে না কৃষক। কেননা কৃষকের পরিবর্তে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে আধিপত্য বিস্তার করছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। মাগুরায় ধান কাটা শুরু হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। অথচ ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। প্রতি বছর সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু দেরিতে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান প্রান্তিক কৃষকের জন্য কোনও সুফল বয়ে আনে না। কেননা তখন তাদের গোলায় কোনও ধান থাকে না।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলা এখন একটি উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনকারী জেলা। বর্তমানে জেলায় ধানের চাহিদা ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৪ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮১ মেট্রিক টন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত উৎপাদনও ধানের নিম্নমূলের একটি অন্যতম কারণ।

এছাড়াও বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধানের সরবরাহ থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের বঞ্চিত করে। এক্ষেত্রে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।  

সদর উপজেলার নান্দুয়ালী গ্রামের কৃষক রজব আলী জানান, মহাজনের দেনার চাপেই দুই সপ্তাহ আগে ধান বিক্রি করেছি ১৮ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এখন শুনছি সরকার ধান কিনবে ২৬ টাকা কেজিতে। এতে আমার কোনও লাভ নেই। কারণ আমার গোলায় এখন কোনও ধান নেই।

সদর উপজেলার আকছি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, শুনেছি ব্যাংক স্বল্প সুদে কৃষককে ঋণ দেয়। কিন্তু আমরা সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বাধ্য হয়েই চড়া সুদে ঋণ নেই স্থানীয় সুদখোরদের কাছ থেকে।

মাগুরা কৃষি ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘ধানের বাম্পার উৎপাদন হলে বাজারে এর মূল্য কম হতে পারে। কিন্তু আমদানিকৃত চাল এই দরকে আরও নিম্নমুখী করছে। এই মূহূর্তে একমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণই পারে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে।’

মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মইনুল ইসলাম জানান, ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরুর জন্য আমাদের নানা ধরণের প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। অভিযান কিছুটা বিলম্বিত হয়। তবু অতি শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। চাল আমদানির বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কোনও হাত নেই।

মাগুরা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষককে স্বল্প সুদেও ঋণ দিয়ে থাকি। তবে সে ঋণ পেতে হলে কৃষককে কিছু শর্ত পালন করতে হয়। শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে তাকে কীভাবে ঋণ দেবো।’

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ