'শুভেচ্ছা বিনিময়'কে কেন্দ্র করে আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ২০

Send
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:১৭, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৫, মে ২৫, ২০১৯

বরগুনাবরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবি-উল-কবির জোমাদ্দার ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মিন্টুর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপেক্ষ ২০জন আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৬টার দিকে উপজেলার লাউপাড়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল থেকেই উপজেলার লাউপাড়া বাজারে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবি-উল-কবির জোমাদ্দার। বিকাল ৬টার দিকে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে তালতলী উপজেলা সদরের দিকে আসছিলেন। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু। এসময় তারা সামনাসামনি হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজবি বিদ্রোহী প্রার্থী মিন্টুকে ‘বড় ভাই কেমন আছেন’ বলে হাত তুলে সালাম দেন। সালাম দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা দুই জনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে। দুই গ্রুপের সমর্থকরা একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেয়। এসময় উভয় পক্ষই দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় মহড়া দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, ‘লাউপাড়া বাজারে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজবি-উল-কবির জোমাদ্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিন্টু ভাই লাউপাড়া বাজারে গেলে আমি তাকে দেখে কুশল বিনিময় করতে চাই। কিন্তু তিনি আমাকে এড়িয়ে যান। এসময় তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আমার সমর্থকদের বাকবিতণ্ড হয়। তবে এসময় কোনও মারামারি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজি নৌকায় ভোট না দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কথা বলে আসছিল। এ ঘটনায় ওইদিন বিকালে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এঘটনায় ১০-১৫ জন কর্মী আহত হয়।’ 

আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিন্টু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারাও লাউপাড়া অবস্থান করছিল। আমরাও সেই সময় লাউপাড়া যাই। তাদের থেকে অনেক দূরে আমাদের অবস্থান থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সালাম দেওয়ার অজুহাতে আমাদের কাছে আসে। এসময় তার কর্মীরা আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে।  আমার কর্মীরা হামলার হাত থেকে বাঁচতে তারা এর প্রতিবাদ করে। হামলা-পাল্টা হামলায় আমাদের ৭ থেকে ৮জন কর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় আমরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমার জনসমর্থন দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে।  তাই এধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ