হালদায় নমুনা ডিম দিয়েছে মা মাছ

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩:২৯, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৭, মে ২৫, ২০১৯

হালদায় ডিম সংগ্রহে জেলেরা

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শনিবার (২৫ মে) ভাটার সময় সকাল এবং জোয়ারের সময় দুপুরে  হালদা নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মা মাছ।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার (২৪ মে) রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এরপরও এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগির মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।

স্থানীয়রা জানান, এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকার মাছুয়াঘোনা বাসিন্দা মাহবুবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিতে হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা রাত ৯টা থেকে ডিম সংগ্রহ করার জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। কিন্তু এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার সাড়ে ১০টার দিকে রামদাশ হাট, খলিফার ঘোণাসহ কয়েকটি পয়েন্টে নমুনা ডিম পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাধারণত মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে শিগগির মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়বে।’

একই কথা জানিয়েছেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মা মাছ আগে নমুনা ডিম ছেড়ে পরীক্ষা করে নদীতে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা। এরপরই পুরোদমে ডিম ছাড়ে। আজ পুর্ণিমা, অমবশ্যার তিথি ছাড়া সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ ছিল। পাহাড়ি ঢল, ব্রজসহ বৃষ্টি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া সবই ছিল। তবুও মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। সম্ভবত পুর্ণিমা ও অমবশ্যার তিথি না থাকায় মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়েনি।’ ১০ থেকে ১৫দিন আগেও একবার মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে বলে তিনি জানান।

কখন ডিম ছাড়তে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নমুনা ডিম মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই মা মাছ ডিম ছাড়বে। আমরা আশা করছি, এবার অতীতের চেয়ে বেশি ডিম আহরণ করতে পারবেন জেলেরা। কারণ এবার মা মাছ রক্ষায় নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।’

হালদা থেকে গত বছর ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

মা মাছ ডিম ছাড়ছে কিনা বিষয়টি মনিটরিং করছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিম ছাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। আশা করছি, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ ডিম আহরণ করতে পারবেন জেলেরা। নিয়মিত অভিযানের কারণে এবারের হালদার অবস্থা বিগত দিনগুলোর চেয়ে অনেক ভালো।’

হ্যাচারিগুলোও সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে ডিম থেকে রেণু ফোটানোয় সমস্যাই হবে না বলে দাবি করেন আজহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘মাছুয়াঘোণা, শাহ মাদারি এবং মদুনাঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্ল্যাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। সংস্কারের অভাবে কিছু কুয়া এতদিন নষ্ট অবস্থায় ছিল। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নষ্ট কুয়াগুলোও সংস্কার করা হয়েছে। তাই এবার ডিম থেকে রেণু ফোটানোতে জেলেদের কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।’

 

/এমএ/

লাইভ

টপ