কয়েক দফা দাবিতে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস- পরীক্ষা বর্জন

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৭ মে ২০১৯, ১০:৩৬আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ১০:৫৩

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জরিমানা কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার (২৬ মে) থেকে তারা লাগাতর আন্দোলন শুরু করেছেন। দাবি না মানলে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, বশেমুরকৃবি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যদি কোনও শিক্ষার্থী ক্লাসে ৮০ শতাংশের কম উপস্থিত থাকে তবে জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ক্লাসে উপস্থিতি ৭০-৭৯ শতাংশ হলে দুই হাজার টাকা এবং ৬০-৬৯ শতাংশ হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টি সুরাহা করতে শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে গেলেও শিক্ষকরা কোনও কথা বলেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট সিস্টেমে বছরে তিনটি টার্ম শেষ করতে হয়। প্রতি টার্ম শুরুর ১৭ দিনের মাথায় প্রথম মিড, এটি শেষের ১৫ দিনের মাথায় দ্বিতীয় মিড এবং এর ২৭ দিনের মাথায় ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এই মিড টার্ম পরীক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, ল্যাব ক্লাস, কুইজ পরীক্ষা যথারীতি চলতে থাকে। পাশাপাশি ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ৪ বছরে ২৪০ ক্রেডিট পড়ার কথা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিন্তাই করতে পারেন না। সেখানে স্নাতক পর্যায়ে চারটি অনুষদের মধ্যে কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি অনুষদে চার বছরে ২৪০, ফিশারিজ অনুষদে ২৩০ এবং ভেটেরিনারি অনুষদে পাঁচ বছরে ২৮৩ ক্রেডিট পড়ানো হয়।

তাদের অভিযোগ, বছরে তিনটি টার্মের শুরুতে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি বাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তাই জরিমানা কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২১ মে থেকে আন্দোলনে করছেন তারা। রবিবারও তারা রবিবার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, অবস্থান ধর্মঘট এবং বিক্ষোভ করেছে। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের (ছাত্র কল্যাণ) কাছে তাদের দাবি-দাওয়া জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

দাবির মধ্যে রয়েছে, ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি না হলে যে জরিমানা ধরা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে, পরীক্ষা দেওয়ার সর্বনিম্ন উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ করতে হবে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে এনরোলমেন্ট ফি একহাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। মিড পরীক্ষাগুলোর মধ্যে একটি বাদ দিতে হবে এবং পরীক্ষার পর কোনও ক্লাস-ল্যাব দেওয়া যাবে না।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ জানান, ২০০৫ সাল থেকে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এবং ১৯৯১ সাল থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ওই বিধান চলে আসছে। বিধান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০ শতাংশের নিচে হলে কেউ পরীক্ষাই দিতে পারতো না। তবে সিন্ডিকেট সভায় জরিমানার বিধান রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। যা আগামী জুলাই থেকে চালু হবে। গত ২০ মে এ বিষয়ে অফিস আদেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ জরিমানার বিধান রয়েছে। আর টার্ম পরীক্ষার বিষয়টিও আগে থেকেই চালু আছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোর্স ক্রেডিট সিস্টেম অনুযায়ী চলছে।

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কারওয়ান বাজারে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ
কারওয়ান বাজারে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ
নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সাবেক এমপির স্ত্রী কারাগারে
নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সাবেক এমপির স্ত্রী কারাগারে
নকআউটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে বেলজিয়াম-সেনেগাল 
নকআউটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে বেলজিয়াম-সেনেগাল 
ফুটবলে জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ফুটবলে জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সর্বাধিক পঠিত
‘এখন ক্ষমতা আছে গ্রেফতার দেখান, আমরাও শেষ দেখে নেবো’
‘এখন ক্ষমতা আছে গ্রেফতার দেখান, আমরাও শেষ দেখে নেবো’
আত্মসমর্পণের পর এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যানের জামিন
আত্মসমর্পণের পর এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যানের জামিন
নবম পে-স্কেল কার্যকর আজ, বর্ধিত বেতন কবে মিলবে?
নবম পে-স্কেল কার্যকর আজ, বর্ধিত বেতন কবে মিলবে?
এরদোয়ানকে ‘শান্ত হতে’ বললেন নেতানিয়াহু
এরদোয়ানকে ‘শান্ত হতে’ বললেন নেতানিয়াহু
সরকারের এক ঘোষণায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, ফিরছে আস্থা
সরকারের এক ঘোষণায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, ফিরছে আস্থা