এক মুক্তিযোদ্ধার ‘বন্দিজীবনের’ অবসান, খুলে দেওয়া হলো সেই রাস্তা

Send
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:০০, মে ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৯, মে ২৭, ২০১৯

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের পরিবারের চলাচলের জন্য প্রাচীর ভেঙে এই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছেআশুলিয়ায় ১১ দিন ধরে নিজের বাড়িতে 'বন্দি' থাকা এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের চলাচলের পথটি অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি দখলের জন্য তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রায় ১১ দিন বাড়ির ভেতরে বন্দি থাকার পর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রবিবার রাতে পায়ে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়া হয়।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৭ বছর আগে তিনি আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পৌনে ছয় শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার পরিবারে নারীসহ প্রায় ১৪ জন সদস্য। আব্দুল জলিল জানান, ‘বেশ কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার মাস্টার, ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সাদেক ভুঁইয়া আমার জমিটি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। প্রতিবেশী দেলোয়ার মাস্টার জমিটি কিনতে চেয়েছিল। তবে আমি বসতবাড়ি বিক্রি করবো না বলে জানিয়ে দেই। এ কারণেই ইউপি সদস্য সাদেক ভুঁইয়াসহ প্রভাবশালীরা মিলে আমার বাড়ির চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ১১ দিন আগে বন্ধ করে দেয়। দেয়াল তুলে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় তারা।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। অথচ ১১ দিন বাড়ির চলাচলের পথ আটকে রেখে আমার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী।’বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের পরিবারের চলাচলের জন্য প্রাচীর ভেঙে এই পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে

এ ঘটনা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের বাড়ির সদস্যদের পায়ে চলাচলের পথটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধামসোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সাদেক ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি আব্দুল জলিলের কাছে যাইনি। তিনিই আমার কাছে জমি বিক্রি করতে এসেছিলেন।’ এর বাইরে আর কোনও কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা করিম, শাহ আলমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউপি সদস্য সাদেক ভুঁইয়া জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। তিনি কৌশলে বিভিন্ন অসহায় লোকের জমি নামমাত্র মূল্যে কিনে অন্যদের কাছে বিক্রি করেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই বীর মুক্তিযাদ্ধা আব্দুল জলিলের চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তি বা ইউপি সদস্য যদি উনাকে বাড়ি বিক্রির জন্য চাপ দিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আশুলিয়ায় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মুক্তিযোদ্ধার জমিতে কোনও নির্দিষ্ট সড়ক ছিল না। এ কারণেই আশপাশের জমির মালিকরা তাদের জমিতে সীমানা প্রচীর তৈরি করে ফেলায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি অমানবিক। একজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশ স্বাধীন করায় অংশ নিয়েছেন, তার পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ আমাদের কাম্য নয়। তবে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে চাপ দিয়ে জমি বিক্রির বিষয়টি সঠিক নয়। পাশের এক জমির মালিকের কাছ থেকে জমি কিনে রাস্তা কেনার কথা থাকলেও সেই মুক্তিযোদ্ধা টাকা দিতে ব্যর্থ হন।’

 

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ