খুলনায় লুকিয়ে বিক্রি হচ্ছে আদালতের নিষিদ্ধ পণ্য

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২৬, মে ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৪, মে ২৭, ২০১৯

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় অকৃতকার্য কয়েকটি ভেজাল পণ্যবাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার জন্য গত ১২ মে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ আদেশের ১৪ দিন পরও খুলনার বিভিন্ন বাজার ও দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব মানহীন পণ্য। এসব পণ্য দোকানে লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট ছোট কোম্পানিগুলো এখনও নিজেদের পণ্য বাজার থেকে পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়নি। বিএসটিআই বলছে, নিম্নমানের এসব পণ্য বাজারে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
রবিবার (২৬ মে) খুলনা মহানগরীর নিউমার্কেট, শেখপাড়া বাজার, কেসিসি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে দেখা যায়, মোল্লা সল্ট, ডুডলি কোম্পানির মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বাজারের ছোট ছোট স্টোরগুলো থেকে কোনও পণ্যই সরানো হয়নি। আর বিক্রেতারা এসব পণ্য দোকানের সামনে না রেখে গুদামে রেখে বিক্রি করছেন। ক্রেতারা এ জাতীয় পণ্য চাইলে তাদের না দেখিয়েই এসব পণ্য ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসিআই, মোল্লা সল্টের পণ্য এখনও খুলনার বিভিন্ন বাজারে রয়েছে। পণ্য উঠিয়ে নিতে তেমন কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রতিষ্ঠান দু’টিকে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির নিম্নমানের ৫২টি পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটির খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক এস এম নাজিমুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাইকার্টের নির্দেশ মেনে নতুন পণ্য উৎপাদন না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। এখন বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুল আলম জানান, অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া, মূল্য তালিকা না থাকা এবং আদালত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য বিক্রি প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষায় অকৃতকার্য খাদ্যপণ্যগুলো হলো- সিটি ওয়েলের তীর সরিষার তেল, গ্রিন ব্লিচিংয়ের জিবি সরিষার তেল, শবনমের পুষ্টি সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের রূপচাঁদা সরিষার তেল, কাশেম ফুডের সান চিপস, আররা ফুডের আরা ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, শাহারী অ্যান্ড ব্রাদার্সের মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের টেস্টি- তানি ও তাসকিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুডের প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, প্রাণের হলুদের গুঁড়া, তানভির ফুডের ফ্রেশের হলুদের গুঁড়া, এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচের গুঁড়া, মিষ্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাই সুইটস এর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিন যুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ, কে আর ফুডের কিং ময়দা, রুপসার দই, তাঊয়েবা ফুডের মক্কার চানাচুর, ইমতিয়াজ ফুডের মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদের গুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, সূর্যের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তিন তীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনার আয়োডিনযুক্ত লবণ, তাজ আয়েডিনযুক্ত লবণ এবং নূরের আয়োডিনযুক্ত লবণ।
রমজান মাস উপলক্ষে খোলাবাজার থেকে ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। প্রতিবেদন পাওয়া ৩১৩টি পণ্যের মধ্যে এ ৫২ পণ্য নিম্নমানের প্রমাণিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আদালতে রিট করে কনশাস কনজুমার সোসাইটি নামে একটি সংগঠন। পরে গত ১২ মে এই ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।


আরও পড়ুন: পণ্য প্রত্যাহার হয়নি, উল্টো চিঠি দিচ্ছেন তারা

               বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

 

 

/একে/ওআর/

লাইভ

টপ