জামালপুরবাসীর ভাগ্য পাল্টে দেবে ‘শেখ হাসিনা নকশিপল্লি’

Send
বিশ্বজিৎ দেব, জামালপুর
প্রকাশিত : ১৬:২৬, জুন ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০১, জুন ১০, ২০১৯

একনেকে জামালপুরে শেখ হাসিনা নকশিপল্লির বাজেট অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনানকশিপণ্যের জন্য সুচ ও সুতা হাতে নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেন জামালপুরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগই নারী। এই সূচিশিল্প তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কিছুটা ভূমিকা রাখছে ঠিকই তবে দিন বদলাতে দরকার আরও অনেক কিছুই। দরকার নকশিপণ্যের একটা বড় বাজার, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নিজস্ব কারখানা, দরকারি বিনিয়োগসহ আরও অনেক কিছুই। বিষয়টি বুঝতে পেরে এই গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য পাল্টাতে এবং নকশিনির্ভর এই গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে সরকার জামালপুরে প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়েছে একটি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নকশিপল্লি। ‘শেখ হাসিনা নকশিপল্লি’ নামের এই পল্লিটি নির্মাণের জন্য এরইমধ্যে একনেকে বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়েছে।

জামালপুর শহরের পাদদেশে ঝিনাই নদীর পাড় ঘেঁষে কম্পপুর এলাকায় শেখ হাসিনা নকশিপল্লির জন্য ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাট কাজের জন্য একনেকের সভায় এরইমধ্যে ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জামালপুরের নকশিকাঁথা নিয়েই শুধু শেখ হাসিনা নকশিপল্লি নয়, সারাদেশে যত ধরনের হস্তশিল্প আছে তার পাইকারি বাজার হবে এখানে। অন্তত ৩ হাজার ভবন নির্মাণ করা হবে এখানে। চারজন উদ্যোক্তার জন্য একটি করে কারখানা স্থাপনের জন্য ভবন বরাদ্দ থাকবে। তারা তাদের পণ্য তৈরি করবে সেই জায়গায়। এতে ১২ হাজার উদ্যোক্তার কারখানা থাকবে এখানে। তাদের জন্য থাকবে একটি বিশাল শপিংমল। সেই শপিংমলে প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি বা দুটি করে শোরুম বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জামালপুরের নকশিকাঁথা (ছবি-অনলাইন থেকে সংগৃহীত)এটি আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য একটি ফাইভ স্টার হোটেল স্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি এর ভেতরেই একটি পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। থাকবে থিমপার্ক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হস্তশিল্প মেলা আয়োজনের সব ব্যবস্থা থাকবে এখানে, যাতে জামালপুরের নকশিকাঁথাসহ বাংলাদেশের সব ধরনের হস্তশিল্পের ব্যবসার প্রসার ঘটে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জামালপুরের পরিচিতি বাড়বে। শুধু জামালপুরের হস্তশিল্পে জড়িতদের পুনর্বাসনের জন্যই নয়, এখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতিতে ভালো প্রভাব রাখবে। জামালপুরে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। এ প্রকল্প চালু হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে জামালপুরে কোনও গরিব মানুষ থাকবে না। জামালপুর হবে দেশের একটি অন্যতম জেলা। জামালপুরের তৈরি নকশিকাঁথা, শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ, পাঞ্জাবিসহ নানা পণ্যের সুনাম ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও। শেখ হাসিনা নকশিপল্লিতে কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি থাকবে বিদেশি ক্রেতাদের আবাসনের ব্যবস্থাও। তাই এটি নির্মাণ হলে এখানকার কর্মীদের কাজের মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়বে—এমনটাই আশা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার একজন কারুশিল্পী জোৎস্না বেগম নকশিপল্লি প্রসঙ্গে বলেন, জামালপুরের নকশি পণ্যের মালিকরা যদি তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় তবে আমরাও শ্রমের মজুরি বেশি পাবো।
পৌরসভার তিরুথা গ্রামের সুচিশিল্পী শিউলি আক্তার বলেন, আমরা এতদিন ন্যায্য মজুরি পাইনি। নকশিপল্লিটি হলে ন্যায্য মজুরে পাবো। আমরা নিজেরাও পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারবো।
জামালপুরের কারুনীলয় হ্যান্ডিক্র্যাফ্ট-এর মালিক আঞ্জুমান আরা খানম বলেন, এই পল্লিটি চালু হলে আমরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবো। এতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারদের হয়রানির হাত থেকেও রক্ষা পাবো।জামালপুরের নকশি কাঁথা ( ছবি-অনলাইন থেকে সংগৃহীত)
জামালপুর জেলা নকশি হস্তশিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, নকশিপল্লি নির্মাণ হলে নকশিকাঁথা শিল্প প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। পাশাপাশি একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা ন্যায্য মূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাবে। অপরদিক মানসমৃদ্ধ উৎপাদন হওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জামালপুরের নকশি পণ্যের চাহিদা বাড়বে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, জামালপুর শেখ হাসিনা নকশিপল্লির ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের জন্য সম্প্রতি একনেক সভায় ৭২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পটি জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই বিশ্বাস এ অঞ্চলের মানুষের।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ