নরসিংদীর পলাশে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো. রাজনসহ ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার (১০ জুন) দুপুরে উপজেলার চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার দাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৮ জুন) বিকালে পলাশের চরসিন্দুর সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাইয়ুম মিয়াসহ কয়েকজন ঘুরতে যায়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন বখাটের সঙ্গে ওই ছাত্রলীগ নেতার কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের দ্বারস্থ হন কাইয়ুম। সন্ধ্যায় পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো. রাজন উভয়পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা করতে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে রাজন স্থানীয় হৃদয় নামে একজনকে মারধর করেন। এসময় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও এসআই প্রদীপ কুমার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাজনকে আটক করেন এবং উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় পুলিশ রাজনসহ ছাত্রলীগ নেতা সুমন, শফিকুল, রহিম ও শুভকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রবিবার দুপুরে এসআই প্রদীপ বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করে আটকদের গ্রেফতার দেখান।
রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রেফতারদের নরসিংদী জেলা জজ আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করতে না পারায় শুনানি হয়নি। পরে আদালতের অনুমতিক্রমে তাদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ শাহীন বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ছোট ঘটনাটিকে বড় করে উপস্থাপন করে মামলা দিয়েছে।’
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি এক ছেলেকে মারধর করছিল। সেখানে চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দিলে ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় এসআই প্রদীপ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’






