কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে ন্যাড়া করে নির্যাতন, ইউপি সদস্য গ্রেফতার

Send
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:০১, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, জুন ১১, ২০১৯

নলছিটিতে দুই স্কুলছাত্রকে ন্যাড়া করে নির্যাতনঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ও ন্যাড়া করে নির্যাতনের অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুস হাওলাদারের ছেলে। তারা দুইজনেই স্থানীয় জেড এ ভুট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ আট জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা য়ায়, নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল অভিযোগ কেন্দ্র কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো. সজিব হোসেন খান (১৪) ও রিফাত হোসেন জয় (১৪) নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেন। কনস্টেবল শাহ আলম ব্লেড দিয়ে জয় নামে এক স্কুলছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দেন। এসময় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র জয় সাংবাদিকদের জানায়, গত রবিবার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। 

জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, ‘আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি।’

সিদ্ধাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধরও করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ