যুবলীগ নেতার মাছের খামারে হয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৮, জুন ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৯, জুন ১১, ২০১৯




 কুমিল্লায় নারী পোশাক শ্রমিককে যে মাছের খামারে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় তার মালিক দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শরীফ উল্লাহ। গত শুক্রবার (৭ জুন) রাতে দাউদকান্দির মালিখিল গ্রামের ওই খামারে নারী কর্মীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে যুবলীগ সভাপতি শরীফ উল্লাহ পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ওই যুবলীগ নেতা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এমন ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দাউদকান্দি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম। তবে ঘটনার পর থেকে যুবলীগ নেতা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ধর্ষণের ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা শরীফ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। মাছের খামারে ধর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা শরীফ উল্লাহর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে সোমবার ধর্ষণের স্থান পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন ও দাউদকান্দি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

দাউদকান্দি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নারী পোশাক কর্মীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির বাণিজ্য কার্যালয়ে। তবে ধর্ষণের ঘটনায় ওই যুবলীগ নেতা জড়িত থাকার কোনও তথ্য আমরা এখনও পাইনি। পুলিশের তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার আল আমিন জানিয়েছে, সে ওই খামারের কর্মচারী ফাহিমের কাছ থেকে কার্যালয়ের চাবি নিয়েছিল। ফাহিমের খোঁজ চলছে।

উল্লেখ্য, প্রেমিক গোলাম রাব্বীর কাছ থেকে বিয়ের আশ্বাস পেয়ে ৭ জুন চট্টগ্রাম থেকে দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল গ্রামে আসেন ওই নারী কর্মী। পরে প্রেমিক গোলাম রাব্বিসহ পাঁচ জন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাছে ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির বাণিজ্যিক কার্যালয়ে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী কর্মী থানায় অভিযোগ করেন। রবিবার পুলিশ অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাউদকান্দির বলদাখাল এলাকা থেকে পুলিশ অন্য আসামিদের ধরতে গেলে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসামি গোলাম রাব্বি ও রাব্বি আহাম্মদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ