কাগজপত্র থাকার পরও দোতলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

Send
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:০৮, জুন ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫১, জুন ১২, ২০১৯

 

কুষ্টিয়ায় বেআইনিভাবে মার্কেট গুড়িয়ে দেওয়া অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় কাগজপত্র থাকার পরও একটি দোতলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মার্কেট কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১০জুন) বিকালে পৌর এলাকার বটতৈলে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির সামনের মার্কেটটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মার্কেট মালিক পক্ষের অভিযোগ,স্থানীয় কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক কামরুজ্জামান নাসির জমিটি কেনার জন্য বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। জমি কিনতে না পারায় পেশি শক্তি প্রয়োগ করে তিনি মার্কেটটি ভেঙে দিয়েছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করে এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জানান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের কাছ থেকে তিনি জমিটি লিজ নিয়েছে। তবে মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপাতে তিনি কিছু জানেন না। অন্যদিকে এ জমি নিজেদের দাবি করে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ যুগ্ম-জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা করেছে।

দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ ব্যক্তি মালিকানা জমির ওপর স্থাপিত দোতলা মার্কেটের প্রায় ২২টি পাকা দোকান কোনও ধরনের নোটিশ ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির জানান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে আমাদের ওই জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। এর সঙ্গে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আযম জানান, জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধির জন্য সিএস রেকর্ডভুক্ত জমিগুলো দখল নিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বলে জেলা পরিষদের সব বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের অভিযান চলছে। ওই জমিটি কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের নামে লিজ দেওয়া হলেও উচ্ছেদের সঙ্গে জেলা পরিষদের কোনও সম্পর্ক নেই। জেলা পরিষদ মার্কেটটি উচ্ছেদ করলে আমাদের লোক এবং মেশিন যেত। ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেন আমাদের কোনও লোক অথবা মেশিন সেখানে ছিল না। দোকান মালিক নিজেই মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কেটের মালিক রাকিবুল ইসলাম জানান,  একমাত্র সম্বল মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় তিনিসহ ভাড়াটিয়ারা সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। আরএস, সিএএস এমনকি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী তিনি জমির বৈধ মালিক। তিনি সরকারকে নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। তারপরও সম্পূর্ণ পেশিশক্তি দেখিয়ে মার্কেটটি ভেঙে দেওয়া হলো।

তিনি আরও জানান, ১৯৯৫ সালে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বটতৈল মৌজায় প্রায় ১০ শতাংশ জমি কিনে তিনি পাঁকা মার্কেট নির্মাণ করেন। এতে ২২টি দোকান ছিল। ‘প্রামাণিক সুপার মার্কেটে’ নামে এ মার্কেটের দোকানদাররা বেশ স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিছুদিন ধরে কেএনবি এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির মালিক কামরুজ্জামান নাসির নানাভাবে মার্কেটটি তার কাছে বিক্রির প্রস্তাব জন্য দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। জমিটি ব্যক্তি মালিকানা হলেও জেলা পরিষদ তাদের বলে দাবি করে কুষ্টিয়া যুগ্ম-জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা চলা অবস্থায় ওই জায়গা কেএনবি এ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক কামরুজ্জামান নাসিরের নামে লিজ দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ। মামলা থাকা অবস্থায় সোমবার ( ১০ জুন) বিকেলে হঠাৎ করেই বুলডোজার দিয়ে মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনও অথরিটি আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মার্কেটটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। কামরুজ্জামান নাসিরের নামে জেলা পরিষদের দেওয়া ওই লিজে দাগ নাম্বার থাকলেও কোনও খতিয়ান নাম্বার নেই। খতিয়ান নাম্বার না দেওয়ার কারণ ওই খতিয়ান নাম্বারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন।

ওই আইনজীবী আরও বলেন,‘যেখানে জেলা পরিষদ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছে, সেই মামলায় আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ নিজের বলে সম্পত্তি দাবি করতে পারে না এবং কাউকে লিজও দিতে পারবে না। লিজ দিলেও সেটি সম্পন্ন বেআইনি হবে। যারা উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্রিমিনাল মামলা করতে পারবেন। মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন।’

 

 

 

/জেবি/

লাইভ

টপ