জমে উঠেছে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা

Send
হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ১২:৪০, জুন ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১, জুন ১৪, ২০১৯

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী বেষ্টিত জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রার্থীরা জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামালগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এনে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের নতুন করে তারিখ ১৮ জুন।

চেয়াম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নিয়ে লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী রশীদ আহমদ।

নির্বাচনি এলাকার ভোটাররা জানান, হাওর বেষ্টিত জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত যিনি করতে পারবেন তাকেই তারা ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করবেন।

ভীমখালি ইউনিয়নের বাহাদূরপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার বলেন,‘জামালগঞ্জ একটি অবহেলিত এলাকা। এখানকার নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। নারী শিক্ষার বিষয়ে যিনি কাজ করবেন তাকেই আগামী নির্বাচনে ভোট দিবেন।’

বেহেলী গ্রামের আরজ আলী বলেন,‘উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। যে প্রার্থী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন তাকে তিনি ভোট দেবেন।’

সাচনা বাজারের ব্যবসায়ী সিন্ধু দাস বলেন,‘ব্যবসায়ীদের কল্যাণে যে প্রার্থী কাজ করবেন তাকেই তিনি ভোট দেবেন। এছাড়া যিনি অপরিকল্পিত সাচনা বাজারের উন্নয়ন করবেন তাকেই তারা নির্বাচিত করবেন।’  

স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম শত ভাগ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,‘নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ষড়যন্ত হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। গেল নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিলেন। নিজের নির্বাচনি এলাকায় এমপি আসতেই পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ভীত হয়ে এসব অভিযোগ করেছেন।’

‘জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন,‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ মাঠে কাজ করছে।’ 

সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল বলেন,‘আচরণ বিধি কোথাও লঙ্ঘন হচ্ছে কি না তা দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চলবে। জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।’

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১ লাখ ১২ হাজার ৭২২ জন ভোটার ৪৬টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের মধ্যে ৫৬ হাজার ৪২৬ জন পুরুষ ভোটার ও ৫৬ হাজার ২৬০ জন নারী ভোটার রয়েছেন। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য ৪৬ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২৮৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৫৭৪ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

 

/জেবি/

লাইভ

টপ