১৮ বছরেও বিচার হয়নি চাষাঢ়ার বোমা হামলার

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৯, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৮, জুন ১৬, ২০১৯

বোমা হামলার পর তোলা ছবিআজ ১৬ জুন। ২০০১ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন অনেকে। ঘটনার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন ও আহতরা।

এ হামলার পরদিনই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ওই মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দেয় পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৩ সালে বিস্ফোরক মামলায় ১০ এবং ২০১৪ সালে হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ ( সিআইডি) অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এ মামলায় ১০১ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ব্যতীত কোনও সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। এতে বিচার নিয়ে সংশয় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে মামলার বাদীসহ হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে।

এ মামলায় গ্রেফতার হন– চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ঢাকা সিটি করপোরেশনের কমিশনার আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১০ জন। আসামিদের মধ্যে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের ওপর বোমা হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দুই আসামি ভারতের কারাগারে আটক রয়েছেন। জামিনে আছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। কারাগারে আটক আছেন যুবদল নেতা শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল।

এ বোমা হামলায় নিহত আক্তার মশুর স্ত্রী শাহনাজ আক্তার বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাত্র ৩৩ মাসে ৭ খুন মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরে ২০ হত্যা মামলার বিচার পাওয়া যায়নি। জামিনে থাকা আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোতে নিহতের স্বজনরা শঙ্কায় আছেন।’ তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

বোমা হামলায় দুই পা হারানো  মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে। বোমা হামলায় উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক স্বাবলম্বী পরিবারও নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের কাছে দাবি, ভারতে আটক মুরসালিন, মুত্তাকিনসহ আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার কাজ করা হোক।’

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, বোমা হামলার ঘটনার দায়ের করা দুটি মামলা এখন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামীকাল (১৭ জুন) সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য আছে। আইনি জটিলতার কারণে এতদিন বিচারকাজ বিলম্বিত হয়েছে। সম্প্রতি মামলা দুটি বিশেষ চাঞ্চল্যকর ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুনের আগেই বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।’

/এমএএ/

লাইভ

টপ