দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া ৬ নারী ও কিশোরী

Send
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:১২, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৮, জুন ১৬, ২০১৯

দেশে ফিরে আসা ৬ কিশোরী ও নারীকে পঞ্চগড় থানা আনা হলে তাদের তথ্য গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া ৬ কিশোরী ও নারীকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার (১৬ জুন) দুপুরে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৫১ বিএন বিএসএফের কমান্ড্যান্ট শ্রী কে উমেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চগড় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হকের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। এসময় তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বাংলাবাস্থা স্থলবন্দরের কাস্টমস কমর্কর্তা, স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ ওই কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তেঁতুলিয়া থানায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে তাদেরকে দিনাজপুরে পাঠানো হয়। সেখানে আগামীকাল সোমবার তাদেরকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, দীর্ঘদিন পরে সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কিশোরী ও নারীদের অভিভাবকরা।

ফেরত আসা কিশোরীদের বাড়ি নড়াইল, খুলনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি ও যশোরে।

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তে বিজিবির কোছে হস্তান্তর করা হয় ভারতে পাচার হওয়া ৬ নারী ও কিশোরীকে।

বিজিবি, পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, পাচারকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে অবৈধভাবে তাদের ভারতে নিয়ে যায়। পরে এসব নারী ও কিশোরীদের ভারতের চেন্নাইয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এদের কেউ এক বছর, কেউ সাত বছর ধরে চেন্নাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় দালালদের আস্তানায় অবস্থান করছিল। তাদের ওপর নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।

বিএসএফ জানায়, ভারতীয় পুলিশ চেন্নাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের সরকারি একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখেন। সেখান থেকে তাদের ১৫ জুন ভারতের শিলিগুড়ি নিয়ে আসা হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশি এনজিও ব্র্যাক  ভারতের শিলং এর ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্কের সঙ্গে টানা এক বছর যোগাযোগ করে পাচারের শিকার ছয় কিশোরী ও নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

নড়াইলের এক কিশোরীর মা জানান, ৭ বছর আগে আমার মেয়েকে  চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। এরপর আমার মেয়ের আর কোনও খোঁজ পাইনি। আজ আমার মেয়েকে আমি ফিরে পেলাম। আমি বোঝাতে পারবো না আমার কতটা ভালো লাগছে। তবে আমরা চাই পাচারচক্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।  

তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ কে আজাদ জানান, ওই কিশোরী ও নারীদের নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রিপোর্ট পেলে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

তেঁতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দালালরা তাদের চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতে পাচার করে। তারা ভারতের চেন্নাই পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। এরপর তাদের চেন্নাইয়ের একটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়। পরে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালির পর তাদের বিশেষ ট্র্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে ফেরত আসাদের তেঁতুলিয়া থানায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। ওই এনজিওটি পাচার হওয়া কিশোরী ও নারীদের কাউন্সিলিংয়ের পর পরিবারের বৈধ সদস্যদের কাছে দেওয়া হবে। 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ