সাড়ে ৩ লাখ টাকায় আকাশের ‘ল্যাম্বোরগিনি’

Send
আমির হোসাইন স্মিথ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১২:১০, জুন ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪১, জুন ১৭, ২০১৯

ল্যাম্বোরগিনির আদলে তৈরি করা গাড়িনারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার আকাশ আহমেদ ইতালীয় ‘ল্যাম্বোরগিনি’র আদলে একটি গাড়ি বানিয়েছেন। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটি বানাতে তার খরচ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা। গাড়িটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। আকাশের দাবি, সরকারি সহযোগিতা পেলে অল্প খরচে দেশের ভেতরে পরিবেশবান্ধব টেকসই গাড়ি বানানো সম্ভব।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে আকাশের বাবার ‘নবী অ্যান্ড সন্স’ অটোরিকশার ওয়ার্কশপে তৈরি করা হয়েছে এই গাড়ি। এটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম।

২০ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম নিজে একটি গাড়ি বানিয়ে সেই গাড়ি দিয়ে চলাফেরা করবো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো ২০১৯ সালে এসে।’ 

ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের একটি আলিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশ। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। আকাশ বলেন, ‘ধর্মগঞ্জে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বডি তৈরির জন্য কারখানা আছে তাদের। ওই কারখানায় অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বডি বানাতে বানাতে তার মাথায় গাড়ি বানানোর চিন্তা আসে।  পরে বাবা নবী হোসেনের কাছে গাড়ি বানানোর কথা বলেন। বাবা ছেলের কথায় সম্মতি দেন। সেই থেকেই যাত্রা শুরু। ক্যালেন্ডারে ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকে তিনি। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০/২০০ টাকা নিয়ে অল্প অল্প করে কাজ শুরু করেন।  ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়ালও ফলো করতেন। ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেন। গাড়ির নকশা, নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে করেন তিনি।

নিজের তৈরি গাড়িতে বসা আকাশতিনি বলেন, ‘গাড়ির চাকা, স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সবকিছু আমার নিজের হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট, গিয়ার, এসবও তৈরি করেছি আমি। যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রায় দেড় বছরের চেষ্টায় গাড়িটি তৈরি করেছি।’

আকাশ জানায়, গাড়িতে প্রায় ৫টি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে, এগুলো প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। আর এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা। এছাড়া ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে গাড়িটি। এটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকাতেও বানানোও যাবে।

তবে গাড়িতে আরও কিছু কাজ বাকি আছে বলে জানায় এই তরুণ। যেমন গাড়ির দরজাগুলোয় সুইচ বসানো। যাতে এগুলো অটো খুলবে ও বন্ধ হয়ে যাবে।

আকাশ বলেন, ‘গাড়ি বানানোর খবর মিডিয়ায় আসার পর থেকেই এখন পর্যন্ত ৩০ জন গাড়ি তৈরি করে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছেন। কিন্তু আমি কারও সঙ্গে কোনও প্রকার চুক্তি করিনি। তাদের বলেছি, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে। কারণ যে গাড়িটি আমি বানিয়েছি, তার চেয়ে আরও ভালো গাড়ি কীভাবে তৈরি করা যায় সেটি নিয়ে চিন্তা করছি। সরকারি সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশেই উন্নতমানের গাড়ি বানানো সম্ভব।’

ল্যাম্বোরগিনির আদলে তৈরি করা গাড়িআকাশের বাবা নবী হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে গাড়িটি বানিয়েছে, এটা এলাকার অনেকেই  বিশ্বাস করতে চায় না। বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পর প্রতিদিনই আমাদের গ্যারেজে গাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন লোকজন। অনেকে প্রশংসা করছেন। ছেলের প্রশংসা দেখে বাবা হিসেবে গর্ববোধ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গাড়ি চালাতে দেওয়ার জন্য অনেকেই আমার ছেলেকে বিরক্ত করেছেন। সম্প্রতি একজন জোর করে গাড়ি চালাতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করে সামনে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কষ্টে ছেলে দু’দিন কোনও কিছু খায়নি। পরে আবার তা মেরামত করেছে। তারপরও সব ত্রুটি এখনও যায়নি। গাড়িটি আমার ছেলের অনেক শখের। অযথা তাকে বিরক্ত না করতে অনুরোধ করছি সবার কাছে।’ 

 

/এসটি/ এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ