নৌকায় ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় কুপিয়ে জখম

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৫৩, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২১, জুন ১৮, ২০১৯

ভোটারদের ওপর বলপ্রয়োগসহ বিশৃঙ্খলার বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক করছেন জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেনপঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চৌবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জোর করে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুথের মধ্যেই সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন তালুকদারের লোকজন নৌকায় ভোট দিতে ভোটারদের ওপর বল প্রয়োগ করেন। ভোটাররা ব্যালট পেপার তাদের কাছে ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাড়ি ফেরার পথে কেন্দ্রের মধ্যেই পুলিশের সামনে চৌবাড়ি গ্রামের অধিবাসী জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ভুট্টু, খায়রুল আলম ও জহুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। রেজাউল করিম ভুট্টুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। 

অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ভুট্টুকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। ভুট্টুর সহকর্মী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন হক রানা এই ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে মন্তব্য করেন। ডা. রাব্বান তালুকদার বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ভিকটিমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে।’ আহত খায়রুল ও জহুরুলকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনার পর ভোটারদের উপস্থিতি ক্রমশ কমতে থাকে। এ কেন্দ্রের চারটি বুথে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ১১৪ জন হলেও দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মাত্র ৩৫৯ ভোট পড়ে। খবর পেয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজাউল করিম ভুট্টু

আহত রেজাউল করিম ভুট্টুর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. সোহেল রানার অভিযোগ, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে সকাল থেকেই সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন তালুকদারের লোকজন কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বুথে ঢুকে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বল প্রয়োগ করতে থাকেন তারা। যারা রাজি হননি তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যারা পছন্দমতো ভোট দিয়েছেন, তাদের মারপিট করা হয়।’
আহত চৌবাড়ি গ্রামের খায়রুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম জেলা নির্বাচন অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার প্রকৌশলী এস এম সানজিদ আহম্মেদের সামনেই সাংবাদিকদের জানান, ‘এলাকার স্বপন মাস্টার, সাদেক মাস্টার, তপন ও বেল্লালের নেতৃত্বে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন তালুকদারের লোকজন বুথের মধ্যে তাদের পক্ষে ভোট দিতে চাপাচাপি করে। রাজি না হওয়ায় বুথের বাইরে গেলে কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক এস আই মাইদুলের সামনেই আমাদের বেধড়ক মারপিট করা হয়।’

অভিযোগ শুনে জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন বুথে গিয়ে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করেন। এ সময় এস আই মাইদুলকে কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বে থাকা এস আই আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, পুলিশের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রের বাইরে সকালে ঘটনাটি ঘটেছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ফালা (ধারালো অস্ত্র) জব্দ করলেও কাউকেও আটক করতে পারেনি। তবে জালভোট দেওয়ার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে জনি হোসেন নামে নৌকার সমর্থক স্থানীয় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

প্রিজাইডিং অফিসার প্রকৌশলী এস এম সানজিদ আহম্মেদ বলেন, ‘সকালে কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা হলেও বুথে কিছু হয়নি। গণ্ডগোলের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম।’

এসব বিষয়ে বক্তব্য নিতে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

রিটার্নিং অফিসার কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চৌবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ভুট্টুসহ বেশ কয়েকজনকে মারপিটের বিষয় শুনে তাৎক্ষণিক সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে।’

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ