জেলার বাইরে গেলে গাড়ি জব্দের নির্দেশ, উপজেলা চেয়ারম্যানদের তোপে বিভাগীয় কমিশনার

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩:৩৫, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৭, জুন ১৯, ২০১৯

চট্টগ্রাম

‘সরকারের দেওয়া গাড়িতে চড়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে মাতবরি করা উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাজ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। তিনি বলেছেন, ‘কোনও উপজেলা চেয়ারম্যান অনুমতি ছাড়া সরকারি গাড়ি নিয়ে নিজ জেলার বাইরে গেলেই ওই গাড়ি জব্দ করতে হবে।’

সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এসডিজির প্রথম সভায় করা এ মন্তব্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা। তাদের সমালোচনা ও তোপের মুখে পড়েছেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান।

বিভাগীয় কমিশনারের এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে উপজেলা চেয়ারম্যানেরা জানিয়েছেন,কোনও একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য বিভাগীয় কমিশনার সবাইকে ঢালাওভাবে ভর্ৎসনা করতে পারেন না। তার (বিভাগীয় কমিশনার) এই মন্তব্য করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ, অনেক চেয়ারম্যান সরকারের দেওয়া গাড়ি ব্যবহারই করেন না।

এসডিজির সভায় আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, বেশিরভাগ উপজেলা চেয়ারম্যান শপথ ভঙ করছেন, দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে যাচ্ছেন। আপনি শপথ নিয়েছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর মতো আপনাকে কাজ করতে হবে। সরকারের দেওয়া গাড়িতে চড়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়ানো, মাতবরি করা আপনার কাজ নয়। অথচ বেশিরভাগ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিনিয়ত তাই করছেন।’ এসময় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ওইদিন কেন এই মন্তব্য করেছেন জানতে চাইলে বুধবার (১৯ জুন) রাতে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি এটি বলেছি এই কারণে যেন সরকারের সম্পদের অপচয় না হয়। আমার কাছে অনেক অভিযোগ আছে উপজেলা চেয়ারম্যানেরা সরকারের গাড়ি নিয়ে জেলার বাইরে যাচ্ছেন। এটি অহরহ ঘটছে।’

সুনির্দিষ্ট কোনও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে এরকম কোনও অভিযোগ নেই। তবে আমরা দেখছি, উপজেলা চেয়ারম্যানেরা এটি অহরহ করছেন। অনেক চেয়ারম্যান আছেন, গাড়ি নিয়ে চলে যান ঢাকায়, গাড়ি নিয়ে চলে যান কক্সবাজার। উপজেলা চেয়ারম্যানেরা যেসব নীতি নির্ধারণী কমিটিতে আছেন, ওইসব প্রোগ্রামে যাতে তারা উপস্থিত থাকেন, সেই জন্যই আমি এটা বলেছি।’ 

এ ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ওই দিন মিটিংয়ে ছিলাম না। তবে শুনেছি, বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিয়ে অযৌক্তিক মন্তব্য করেছেন। একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের কাজের জন্য তিনি সবাইকে দোষারোপ করতে পারেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানেরা শুধু গাড়ি ব্যবহার করেন না; প্রশাসনের লোকজনও গাড়ি ব্যবহার করেন। আমি মনে করি, সবার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা উচিত। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কারও উচিত না। সরকারি আমলাদেরও এটি মেনে চলা উচিত।’

জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ঢালাওভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান বলায় এই অভিযোগ আমার ওপরও আসে। অথচ আমি এখন পর্যন্ত সরকারের দেওয়া গাড়িতে একবারও চড়ি নাই। আমার নিজের তিনটা গাড়ি আছে। ওইগুলোতেই চড়ার সুযোগ পাই না; সরকারের গাড়িতে কখন চড়বো।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তারা হয়তো এটি করতে পারেন। যারা আগে গাড়িতে চড়েননি, তারা করতে পারেন। আমার মনে হয় না, এখন এমন কোনও উপজেলা চেয়ারম্যান আছে যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। আমার নিজের দুইটা গাড়ি আছে, যেগুলো বাসার নিচে থাকে। আমি বেশিরভাগ কাজে ওই গাড়িগুলোই ব্যবহার করি। সরকারের দেওয়া গাড়িতে শুধু বাসা থেকে উপজেলা কার্যালয়ে যাওয়া-আসা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনও একটা গাড়ি ১০ বছর চলার পর সেটি আর চলার অবস্থায় থাকে না। সরকারি বেশিরভাগ গাড়ির অবস্থা এমন। তাই অনেকে এই গাড়িতে চড়েনও না। কিন্তু এরপরও অপবাদ শুনতে হলো। বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটি করা উচিত হয়নি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।’

 

/এমএ/টিএন/

লাইভ

টপ