তনু হত্যা মামলা: ৩৯ মাসেও শেষ হলো না ডিএনএ পরীক্ষা আর ম্যাচিং

Send
মাসুদ আলম, কুমিল্লা
প্রকাশিত : ০৭:৫৫, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৯, জুন ২০, ২০১৯

সোহাগী জাহান তনুকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলাটি ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিং করার বিষয়ে আটকে আছে। হত্যা মামলার ৩৯ মাসেও সিআইডি পরীক্ষা ও ম্যাচিং শেষ করতে পারেনি। এছাড়া দীর্ঘ সময়েও শনাক্ত হয়নি হত্যাকারীরা, নেই মামলার উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি।

এদিকে তনুর খুনিরা চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তার পরিবার এবং কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা। তার মা আনোয়ারা বেগমের আকুতি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি মেয়ে হত্যার বিচার চাইবেন। আনোয়ারা বেগমের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তার মেয়ে হত্যার বিচারে ব্যবস্থা নেবেন।

তনুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। পরে স্বজনরা খোঁজ চালিয়ে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পায়।

পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট।

২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা−এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না।

সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিন জনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও জানায় সিআইডি। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।

গণজাগরণ মঞ্চ-কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, তনু হত্যা মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।

আনোয়ারা বেগম বলেন, তনুর বাবা এবং আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি। মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ পেলে অন্তরে শান্তি পেতাম। প্রায় এক বছর ধরে সিআইডির সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। অফিসে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না।

তনুর মা আরও বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে তা বেরিয়ে আসবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের কাজে কোনও স্থবিরতা নেই, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিং করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। ডিএনএ ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে। আমরা ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি।

/টিটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ