সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ শুরু

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪৫, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩০, জুন ২৫, ২০১৯

 



কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় সেতু ধসে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর সোমবার (২৪ জুন) দিনভর চেষ্টা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও ব্রিজটি মেরামত করেন রেল বিভাগের কর্মীরা।

মেরামত শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ওই রেললাইন ও ব্রিজের ওপর দিয়ে চালানো হয় ট্রায়াল ট্রেন। এ ট্রেন চালাতে গিয়ে কোনও সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ে বিভাগের কুলাউড়ার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ট্রায়াল ট্রেন সমস্যা ছাড়াই চালাচল করেছে। এখন রেল চলাচলে আর সমস্যা নেই। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ৯টায় নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে রবিবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকার অদূরে সেতু ভেঙে ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেতু ভেঙে লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের সঙ্গে এলাকাবাসীও কাজ করে।

ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মিজানুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আরও তিনজন সদস্য হলেন− প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল জলিল, সুজিত কুমার বিশ্বাস ও ময়নুল ইসলাম।

এদিকে, সিলেটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়টি জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সোমবার (২৪ জুন) সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। রেলমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও দুর্ঘটনাই কাম্য নয়। ২০১৪ সালের পরে এই প্রথম কোনও একটি রেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বলা হয়েছে, ব্রিজ ভেঙে রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। এটি সঠিক নয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর যেহেতু সেখানে ব্রিজ ছিল, সেই ব্রিজ থেকে পাঁচটি বগি নিচে পড়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর রবিবার (২৩ জুন) রাতেই রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এখানে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। গতকাল থেকেই মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার সময় এটা চালু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজে কনভার্ট করছি। অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আশা করি, কাজ হবে। এটা সত্য যে দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনগুলো সংস্কার হয়নি। বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকার প্রত্যেক এলাকার মিটারগেজ লাইন ডাবল গেজ লাইনে রূপান্তর করছি; ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে এড়ানো যায়।’

 

আরও পড়ুন:
সেতু নয়, অন্য চার কারণ চিহ্নিত করেছে রেলওয়ের তদন্ত কমিটি
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দু’জন ওসমানী মেডিক্যালের নার্স

/ইএইচএস/আইএ/টিটি/

লাইভ

টপ