মাছ চাষ করতে জলাশয়ে বাঁধ!

Send
আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
প্রকাশিত : ১১:৫৭, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১০, জুন ২৫, ২০১৯

বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে বিলসুতিতেমাছ চাষ করতে নওগাঁর আত্রাইয়ে উন্মুক্ত জলাশয় বিলসুতিতে  স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পর ১৯ জুন বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত দু’টি স্ক্যাবেটর জব্দ করা হয়।  কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন তারা।

আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ও রাজশাহী বাঘমারা উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে উন্মুক্ত জলাশয় বিলসুতি। প্রায় ৭ বছর আগে জলাশয়ের অংশে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খাল খনন করেছে। এ জলাশয়ে আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ (৬ মাস) পর্যন্ত পানি থাকে। এ পানি দিয়ে বড় শিমলা, চকশিমলাসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির বোরো ও আউশ আবাদ করেন। এছাড়া ওইসব গ্রামের প্রায় ৫০০ মৎস্যজীবী এ জলাশয়ে মাছ শিকার করে  জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেনসহ প্রায় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি দুই বছর আগে জলাশয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু এ বছর খালের মুখ বন্ধ করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

বড়শিমলা গ্রামের কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘এই মাঠে আমার ৭ বিঘা ফসলি জমি আছে। ওই জমিতে আবাদ করে সারাবছরের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হয়।  একটি মহল প্রজেক্টের নাম করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থায়ীভাবে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করছে। এটি নির্মিত হলে পানি বের হওয়ার কোনও উপায় থাকবে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের ফসল ডুবে যাবে। আবার যে জমি থেকে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে সেই জমিও নষ্ট হচ্ছে।’

বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে বিলসুতিতেএকই গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান বলেন,  ‘বাঁধ তৈরি হলে  নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। কোনও ফসল হবে না। গরু-ছাগলকে ওই মাঠে ৩ মাস ঘাস খাওয়ানো হয়। বাড়তি খড়ের দরকার হয় না। গত তিন বছর থেকে ওই জলাশয় থেকে পানি উঠানো যাচ্ছে না। আমার ঠিকমতো জমিতে পানিও দিতে পারছি না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ঘটনাস্থল থেকে স্ক্যাবেটর জব্দ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন করে কাজ করা হচ্ছে।

হাটকালুপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী বয়তুল্লাহ ও আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তিন বছর জলাশয় থেকে কোনও মাছ ধরতে পারছি না। কারণ প্রভাবশালীরা আমাদের জলাশয়ে নামতে দিচ্ছেন না। আমরা বিপাকে পড়েছি। আমাদের প্রজেক্ট্রের দরকার নাই। আমরা জলাশয় উন্মুক্ত চাই।’

বাঁধ নির্মাণ কাজে সম্পৃক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিলসুতিতে কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর আগে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হতো। এবার কয়েক‘শ জন্য মিলে মাছ চাষের জন্য স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কোনও ক্ষতি হবে না বরং তারা উপকৃত হবেন।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘বিলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে এমন সংবাদে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ক্যাবেটর মেশিন জব্দ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধে আইনগতভাবে যা করা দরকার তা করা হবে। এটি একটি অবৈধ কাজ। উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সমস্যায় পড়তে হবে। যারা এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

 

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ