গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে লাভবান দিনাজপুরের কৃষকরা

Send
বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
প্রকাশিত : ১৩:০৬, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৪, জুন ২৫, ২০১৯

 দিনাজপুরে টমেটোর বাজারগ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে গত কয়েক বছরের লোকসানের পর এবার লাভের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের চাষিরা। কৃষি বিভাগের মতে,  আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে টমেটো রাখার জন্য হিমাগার করলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কৃষকরা আরও লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।

জেলা সদর, চিরিরবন্দর, বিরলসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকহারে গ্রীষ্মকালীন ভিকোমা, প্রভেনশিপ, রানী, রাজাসহ বিভিন্ন জাতের টমেটোর চাষ হয়। সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের গর্ভেশ্বরী নদীর তীর ঘেঁষে গাবুড়ায় বসে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এই বাজারে প্রতিদিন কৃষকরা প্রায় ৬০০-৭০০ টন টমেটোর বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে বাজার থেকে টমেটো কিনে নিয়ে যায়। পরে সেগুলো বাছাই করে পাঠানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে এই বাজার। 

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক একর জমিতে টমেটো উৎপাদন করতে খরচ হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আর উৎপাদন হয় প্রায় ২০ টন টমেটো। প্রথম দিকে কৃষকরা প্রতিমণ টমেটো ৯০০-১১০০ টাকায় বিক্রি করেন। এরপরও প্রতিমণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা দরে।

তারা জানানগত বছরে মৌসুমের শুরুতে ৩৫০-৪০০ টাকা মণ টমেটো বিক্রি করেছেন। পরে বিক্রি করতে হয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা মণ দরে। এতে লোকসানে পড়েছেন তারা।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার বোলতৈড় এলাকার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার বাজার মোটামুটি ভালো ছিল। ফলে কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পেরেছেন তারা। ২০১৪ সালে টমেটোর বাজার ভালো ছিল। এরপরে লোকসান আর লোকসান। যার কারণে কৃষকরা টমেটোর আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন।’

কৃষক পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘গত কয়েক বছরের লোকসানের কারণে এবার ১৫ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। কিন্তু এবারে ভালো দাম পেয়েছি।’

দিনাজপুরে টমেটোর বাজারদক্ষিণ নগর এলাকার বেনু রাম সরকার বলেন, এবারে টমেটোর বাজার ভালো ছিল। রোগ বালাইও কম হয়েছে। এভাবে বাজার থাকলে কৃষকরা টমেটোর চাষে আগ্রহ ফিরে পাবেন। টমেটো রাখার জন্য যদি একটি হিমাগার স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকদের পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।

ময়মনসিংহ থেকে আসা টমেটোর ব্যবসায়ী আজম ব্যাপারী জানান, এবার বাজার ভালো ছিল। এখান থেকে টমেটো কিনে ঢাকাতেও ভালো দামে বিক্রি করেছেন। তবে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তা না হলে কৃষকরা আরও লাভবান হতেন।

ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, কাঁচাবাজারের কখন দাম কমে আর কখন বাড়ে, কেউ বলতে পারে না। তবে এবারে টমেটোর চাহিদা ভালো। ব্যবসা করেও মজা পাচ্ছি। গত কয়েক বছরে কৃষকদের পাশাপাশি আমাদেরও লোকসান গুনতে হয়েছে।

গাবুড়া হাট ইজারাদার মমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি টমেটোর জন্য হিমাগার স্থাপন করার। এখান থেকে প্রতিবছরে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পায়। এখানে হিমাগার স্থাপন করা হলে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে টমেটোর উৎপাদন বেড়েছে। টমেটো চাষ করে যাতে করে কৃষকরা কোনও সমস্যার মধ্যে না পড়েন সেজন্য সবসময় মনিটরিং করা হয়েছে। এবার কৃষকরা দামও ভালো পেয়েছেন।

তিনি জানান, চলতি বছরে দিনাজপুরে ১ হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়েছে। আগামী আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ