বিনিয়োগকারী বাড়ালেও বন্ধ আট ফ্যাক্টরি চালুতে ব্যর্থ মোংলা ইপিজেড

Send
আবুল হাসান, মোংলা
প্রকাশিত : ১৩:৪৩, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৩, জুন ২৫, ২০১৯

 

বিনিয়োগকারী টানতে পারলেও ব্যবসায়ীদের সমস্যা মেটাতে পারছে না মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় এ ইপিজেডে তিন বছর ধরে আটটি ফ্যাক্টরি বন্ধ আছে। ওইসব ফ্যাক্টরি থেকে উৎপাদিত পণ্য যেত ভারতে। মোংলা ইপিজেড থেকে পণ্য নিতে অতিরিক্ত টাকা লাগায় পণ্য নেওয়া বন্ধ করে দেয় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকেই মোংলা ইপিজেডে আটটি সুপারি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যায়।

‘মোংলা ইপিজেড এক্সপোর্ট অ্যাসোশিয়েশনে’র সভাপতি গালিব কাপাডিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভারত সরকার তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিএফটিআইয়ের (ডায়রেক্টর জেনারেল ফরেন অ্যাসোসিয়েশন) এক ঘোষণায় জানান- বাইরে থেকে কোনও পণ্য আমদানি করতে হলে ৩৬শ’ থেকে চার হাজার ডলারের মধ্যে আমদানি করতে হবে, এর নিচে হলে ভারতে পণ্য আমদানি করা যাবে না। তাই এখন ২৫১ রুপির ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের ব্যবসায়ীরা ২০১৬ সাল থেকে মোংলা ইপিজেড থেকে পণ্য নেওয়া বন্ধ রাখে। ২০১৬ সালের আগে দুই হাজার ডলারের মধ্যে পণ্য আমদানির নিয়ম ছিল। কিন্তু এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।’

কাপডিয়া আরও বলেন, ‘তিন বছর ধরে বন্ধ আটটি ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাদের বেতন ও ইপিজেডের ভাড়া (ল্যান্ড টেক) দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মোংলা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কোনও সহযোগিতা করছে না। সমস্যা সমাধানের জন্য ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, এনবিআরসহ সরকারের একাধিক সংস্থার কাছে চিঠি দিয়েও কোনও সমাধান পায়নি।’

আটটি সুপারির ফ্যাক্টরি দীর্ঘ বছর ধরে বন্ধের কথা স্বীকার করেছে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোংলা ইপিজেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এখানকার সুপারি রফতানিকারকদের এইচ এস কোট নিয়ে সমস্যার কারণে ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রয়েছে। পণ্য রফতানি কোট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এনবিআর থেকে পণ্য রেট কোটের সংশোধনি হলে ওই রেটে ব্যবসায়ীরা আবার ব্যবসা শুরু করবেন বলে তিনি জানান।

ইপিজেডের মহা-ব্যবস্থাপক মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, ‘মোংলা ইপিজেডে এখন আগের তুলনায় অনেক বিনিয়োগ বেড়েছে। বর্তমানে এ ইপিজেডে ব্যাগ, চুল, গার্মেন্ট পণ্য ও কার্টনসহ মোট ২৮টি ফ্যাক্টরি চালু আছে। আরও ১৫ ফ্যাক্টরি চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) জনসংযোগ কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আলমগীর বলেন, ‘২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে মোংলা ইপিজেডের পুঞ্জিভূত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি থেকে ৫২৫ কোটি টাকায়। এখানে রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯৫ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১০ বছরে এখান থেকে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ গুণ। আর বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ গুণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোংলা বন্দরকে ঘিরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে মোংলা ইপিজেডের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের অর্থনীতির সার্ভিক উন্নোয়নের পাশাপাশি মোংলা ইপিজেডের অবস্থান এক নম্বরে থাকবে।’

/এআর/

লাইভ

টপ