যশোর ও খুলনায় ৪৪ হাজার শিশু টিফিনে পাবে সুষম খিচুড়ি

Send
তৌহিদ জামান, যশোর
প্রকাশিত : ১৩:৫৩, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০২, জুন ২৫, ২০১৯

শিশুদের টিফিনে দেওয়া  হবে সুষম খিচুড়িপ্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ এবং একইসঙ্গে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে স্কুলের শিশুদের টিফিনে সপ্তাহে তিনদিন দেওয়া হবে সুষম খিচুড়ি। যশোরের ঝিকরগাছা ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ২৪৮টি প্রাথমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় টিফিনে এই খাবার দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা অনুযায়ী গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রকল্পের অধীনে ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং বটিয়াঘাটার ১১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ৪৪ হাজার ৫৭৩ জন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিমা কাদির জুয়েনা, আরিফ হোসেনসহ বেশকিছু শিশু জানায়, খুব সকালে স্কুল থেকে আসতে হয় বলে তাদের অনেকেই বাড়ি থেকে খেয়ে আসতে পারে না। তখন ক্লাস করতে কষ্ট হয়। এখন স্কুলে টিফিনে বিস্কুট দেওয়া হয়। স্কুলের স্যাররা জানিয়েছেন, সামনে টিফিনে খিচুড়ি দেওয়া হবে। শুনে তারা খুশি।স্কুলের শিশুদের টিফিনে দেওয়া  হবে সুষম খিচুড়ি

মাশকুরা আহমেদ নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ক্লাস চলে। সকালে বাচ্চাকে খাইয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠাই। আর স্কুল চলাকালে প্রায় প্রতিদিন দুপুরে বাসা থেকে খাবার এনে বাচ্চাকে খাইয়ে দিয়ে যাই। শুনেছি সরকার বেশ উন্নতমানের খাবার দেবে শিশুদের টিফিনে। সেটি হলে আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারবো। আমাদের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি স্বস্তিও থাকবে।’

কৃষ্ণনগর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক এসএম আকিফুজ্জামান বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ হতে যাচ্ছে। আমরা শিশুদের রান্না করা খাবার দেওয়ার বিষয়ে অবগত আছি। এই স্কুলে রান্নাঘর ও বাবুর্চি নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। এই কর্মসূচি চালু হলে স্কুলে শিশুদের অনুপস্থিতির হার অনেক কমবে। শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় তাদের পুষ্টিহীনতার বিষয়টি কমবে। এর ফলে শিক্ষার গুণগতমানও বাড়বে। প্রকল্পটি সারাদেশে চালুর দাবি জানাই।’

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে স্কুল ফিডিংয়ের এ কর্মসূচি ঝিকরগাছায় বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ। এই সংস্থার মনিটরিং ও রিপোর্টিং অফিসার মো. নিজামুল ইসলাম বলেন, ‘১ জুলাই থেকে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। শিশুদের একদিন খিচুড়ি, পরদিন বিস্কুট এভাবে পালাক্রমে সপ্তাহে তিনদিন খিচুড়ি দেওয়া হবে। খিচুড়ির চাল ও ডাল বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে খনিজ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ করে প্যাকেটজাত করে দেওয়া হবে। প্রতিটি স্কুলে আলাদাভাবে রান্না করার স্থান এবং একজন শিক্ষিত বাবুর্চি নিয়োগ দেওয়া হবে। যিনি নিজেই বাজার থেকে টাটকা শাক ও সবজি ক্রয় করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীপ্রতি চাল, ডাল, তেল, শাক-সবজি, আলু মিলিয়ে প্রায় ১৮০ গ্রাম এবং সপ্তাহে একটি করে ডিম বরাদ্দ রয়েছে।’শিশুদের টিফিনে দেওয়া হবে সুষম খিচুড়ি

ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা পারভীন বলেন, ‘অনেকের বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার আসে। কেউ শুধু বিস্কুট আর পানি খেয়েই বাকি ক্লাসগুলো করে। শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ, পুষ্টির অভাব পূরণ, শিশুদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত আর প্রাথমিকে ঝরে পড়া রোধে সরকার পাইলট হিসেবে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। খুলনা বিভাগের দুটি উপজেলায় এই প্রকল্প চলবে। এর মধ্যে ঝিকরগাছা আর খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা রয়েছে।’

তিনি জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতার জন্যে শিক্ষার্থীদের মায়েদের নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১৫টি স্কুলের ১৫ হাজার ৮৮৩ শিশুকে খিচুড়ি খাওয়ানো হবে।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ