বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আরেকটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০১, জুন ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১০, জুন ২৫, ২০১৯

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনও। এই ইউনিট থেকে ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ১নং ইউনিটটি প্রায় দেড় বছর ধরেই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি উৎপাদনে আছে এবং এই ইউনিট থেকে বর্তমানে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) ভোরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২নং ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে রাত থেকেই ওই ইউনিটটির টারবাইনে বেশ সমস্যা দেখা দেয়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংরক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুব হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘ভোরের দিকে সমস্যা হওয়ার কারণে কেন্দ্রের ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেটি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি ওভার হোলিংয়ের জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এই কর্মকর্তা আরও জানান, ২ নং ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা লোডশেডিং হতে পারে, তবে অন্য স্থান থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে এসে লোডশেডিংয়ের সমস্যা মোকাবেলা করার চেষ্টা হচ্ছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার কোনও ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ৩নং ইউনিটের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে ২২শ’ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। আর ১নং ও ২নং ইউনিটের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হয় প্রায় ১২শ’ মেট্রক টন কয়লা। তবে যেহেতু ১নং ও ২নং ইউনিটি বন্ধ রয়েছে তাই বাড়তি কয়লা মজুদ রাখা হচ্ছে। যাতে করে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা উৎপাদনে সমস্যা হলেও তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা সংকটের মত সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যায়। পরে কয়লার অভাবে গত ২২ জুলাই বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। পরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩ মাস পর কয়লা খনির উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইউনিট চালু করে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রয়োজনীয় কয়লার অভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে কয়লার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে বন্ধ থাকার ৫ মাস পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ