সিলেটে স্বর্ণমেলায় ‘ভয়ে’ অংশ নেননি অনেক ব্যবসায়ী

Send
তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট
প্রকাশিত : ১৬:৩৩, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪২, জুন ২৬, ২০১৯

সোনাগত সোম ও মঙ্গলবার (২৪ ও ২৫ জুন) সিলেটে অনুষ্ঠিত  ‘স্বর্ণমেলা’য় বিভাগের ১২৮ জন ব্যবসায়ী তাদের কাছে থাকা সোনার ওপর কর দিয়ে তা বৈধ করে নিয়েছেন। তবে তারা রূপা ও হিরার কোনও তথ্য দেননি। এদিকে বিভিন্ন ধরনের ‘শঙ্কা’ আর   ‘ভয়ে’ মেলায় অংশ নেননি সিলেট,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী। যারা নিজেদের কাছে গচ্ছিত সোনা কর দিয়ে ‘সাদা’ করেননি তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযানে নামার কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতোমধ্যে জেলাগুলো থেকে ব্যবসায়ীদের তালিকাও সংগ্রহ করা হয়েছে। সোনা ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

গত ২৮ মে থেকে দেশের সোনা ব্যবসায়ী ও স্বর্ণকারদের কাছে অঘোষিত বা অবৈধভাবে থাকা সোনার মজুত ঘোষণায় আনার সুযোগ দেয় এনবিআর। এই সুযোগ ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে। তবে সোনা ব্যবসায়ীরা যাতে সহজেই এই সুযোগ নিতে পারেন, সে জন্য রাজধানীসহ  বিভাগীয় শহরগুলোতে এই  অভিনব  মেলার আয়োজন  করা  হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া সোনা ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে কর দিয়ে ‘কালো’ সোনা ‘সাদা’ করতে দেখা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আটটি বিভাগীয় শহরে স্বর্ণমেলার আয়োজন করে। অবৈধ পথে সংগ্রহ করা সোনা, রূপা ও হিরা বৈধ করে নিতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়। স্বর্ণমেলায় উপস্থাপন করা সোনা বা সোনার অলঙ্কারের ওপর করের পরিমাণ ছিল ভরি প্রতি ১ হাজার টাকা, কাট ও পোলিশড হিরার ক্যারেট প্রতি করের পরিমাণ ৬ হাজার টাকা এবং রূপার ভরি প্রতি করের পরিমাণ ৫০ টাকা। স্বর্ণালঙ্কার সংশ্লিষ্ট যে কোনও নিবন্ধিত ব্যবসায়ী সমিতির বৈধ সদস্যরা মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

সিলেট বিভাগের স্বর্ণমেলায় এবার ১২৮ জন ব্যবসায়ী দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা কর দিয়ে তাদের কাছে গচ্ছিত সোনা বৈধ করে নেন। এরমধ্যে সোনার পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ভরি। তবে ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে গচ্ছিত রূপা ও হিরার কোনও তথ্য দাখিল করেননি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সিলেট জেলা শাখার সদস্য সংখ্যা ২৪৭। এই হিসাবে সিলেট জেলার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্বর্ণমেলায় অংশ নেননি।

মেলায় অংশ না নেওয়া কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে জানান, বড় ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমাণ সোনা আছে তার হিসাব দিলে অনেক টাকা সরকারের কোষাগারে কর দিয়ে তা সাদা করতে হবে। এমনিতেই এ ব্যবসায় অনেক ঝুঁকি। সব ধরনের ঝুঁকি সামাল দিয়ে এই ব্যবসা করছেন তারা। এর মধ্যে যদি রক্ষিত সোনার যথাযথ হিসাব দাখিল করা হয় তাহলে পরবর্তীতে অনেক রকম ঝামেলায় পড়তে হবে। এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন সময়ে শুরু করবে অভিযান। তাই মেলায় অংশ নেননি তারা। আর যারা অংশ নিয়েছেন মেলায় তারা শুধু লোক দেখানোর জন্য অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত হিসাব তারা মেলায় দাখিল করেননি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী বাবুল আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী অংশ নিয়েছেন। আমি নিজেও রক্ষিত সোনার তথ্য দাখিলের পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে করও দিয়েছি। যারা অংশ নেননি হয়তো কোনও কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তবে আমরা আশাবাদী ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবেন।’ তথ্য দাখিল করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কোনও শঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনও শঙ্কা নেই। আমরা এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার মিটিংও করেছি। এজন্য সরকারও নীতিমালা করেছে।’

সিলেট উপ কর কমিশনার সদর দফতর কাজল সিংহ (প্রশাসন) জানান, ‘সিলেটে আয়োজিত স্বর্ণমেলায় বিভাগের চারটি জেলার ১২৮ জন ব্যবসায়ী কালো সোনা সাদা করেছেন। তাদের কাছে রক্ষিত সোনা কিংবা স্বর্ণালঙ্কারের হিসেব দাখিল করে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা কর দিয়েছেন। তবে মেলা চলাকালীন সময়ে কোনও ব্যবসায়ী রূপা ও ডায়মন্ডের কোনও তথ্য দেননি।’ যারা তথ্য দাখিল করবেন না তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও ব্যবসায়ী তাদের কাছে রক্ষিত সোনা, রূপা ও হিরার তথ্য দাখিল না করলে পরবর্তীতে অভিযান চালানোর সময় ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা জেলা ওয়ারী সোনা ব্যবসায়ীদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সোনা সাদা না করেন তাহলে পরবর্তীতে তালিকা অনুসারে অভিযান চালানো হবে।’ আগামী জুলাই মাস থেকে কালো বা অবৈধ সোনার মজুত খোঁজার অভিযান শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন- বরিশালে ২০ হাজার ভরি সোনা ‘সাদা’ করলেন ব্যবসায়ীরা

 

/এফএস/টিএন/

লাইভ

টপ