বিড়ালের বাচ্চা পুড়িয়ে মারার প্রশ্নই আসে না: প্রীতিলতা হল প্রভোস্ট

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২২:৫২, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৭, জুন ২৬, ২০১৯

বিড়ালের বাচ্চাচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা ছাত্রী হলে বিড়ালের বাচ্চা পুড়িয়ে মারার বিষয়টি গুজব বলে দাবি করেছেন হলের প্রভোস্ট পারভীন সুলতানা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিড়ালের বাচ্চা পুড়িয়ে মারার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি গুজব ছাড়া কিছুই না। সকাল সাড়ে ৮টায় আমি বিড়ালের বাচ্চাগুলো দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও সকালে বিড়ালের বাচ্চাগুলো পুড়িয়ে মারার গুজব ওঠায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হলের কর্মচারী কর্মকর্তাদের ডেকে বিড়ালের বাচ্চাগুলো বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা বলেছে বিড়ালের বাচ্চাগুলোকে তারা দেখেছেন। এগুলো ভালো আছে। পুড়িয়ে মারা হয়নি।’ হলের মেয়েরা বিড়ালের বাচ্চাগুলোকে অনেক যত্ন করতো বলে তিনি জানান।

পারভীন সুলতানা বলেন, ‘বিড়ালটি এর আগে যেসব বাচ্চা প্রসব করেছে হলের মেয়েরা সেগুলোরও অনেক যত্ন নিতো। তারা রান্না করার পর বাচ্চাগুলোকে খেতে দিতো। খাবার খাওয়ার সময় ডাইনিং রুমে বিড়ালগুলো আসতো। তখন মেয়েরা ওগুলোকেও খাবার দিতো।’

এর আগে সকাল মুনমুন শারমিন শামস নামে এক মেয়ে ফেসবুকে একটি মা বিড়ালের ছবি আপলোড দিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে শারমিন লেখেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের মেয়েরা একটা বিড়ালের সদ্য জন্মানো তিনটা বাচ্চাকে মা বিড়ালটার সামনে পুড়িয়ে মেরেছে। মা বিড়ালটা অনেক চেষ্টা করেছিল বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে পারেনি। এরপর থেকে মা বিড়ালটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকে মেঝেতে। ছবিটা দেখলাম। এই সমাজের সমস্যাটা আসলে কই হচ্ছে হয়তো তা আইন্ডেটিফাই করার সময়ও চলে গেছে। আমি জানি না ওই মেয়েগুলোর কোন শাস্তি হবে কি না। কিন্তু আমি খুবই চাই, ওদের বড় ধরনের শাস্তি হোক।’

এর পরপরই বিড়ালের বাচ্চা পুড়িয়ে মারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রীতিলতা হলের আবাসিক ছাত্রী ফারজানা আফরিন বলেন, ‘আমি প্রায় দুই বছর হল প্রীতিলতা হলে আছি। গত এক বছর বা আরো বেশী সময় ওই বিড়ালটাকে দেখছি। গত ৩/৪ দিন আগে বিড়ালটি ৪টা বাচ্চা জন্ম দেয়, আমার রুমের সামনেই বাচ্চা প্রসব করে। একটা বাচ্চা সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়, অথবা মরা বাচ্চা প্রসব করে। অন্য ৩টি বাচ্চার একটির পায়ে সমস্যা হয়েছিল, ওই বাচ্চাটা হাটতে পারতো না। বাকি দুইটাও অসুস্থ ছিল। মা বিড়ালটা বাচ্চাগুলোকে আমার রুমে এনে রেখেছিল। পরে আমি একটা বিস্কুটের কার্টনে ভরে এগুলো আমার রুমে রাখি। এরপর একটা আপু তার রুমের সামনে নিয়ে কার্টনটা রাখে, কিন্তু রুমমেটরা নিষেধ করায়, তিনি করিডোরে রেখে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল সারাদিন আমি রুমেই ছিলাম। বিড়াল পোড়ালে অন্তত গন্ধ থাকতো। কিন্তু এমন কিছুই পাইনি। এই বিড়ালটা কয়েকদিন পর পর বাচ্চা দেয়, সবগুলোই ঠিক আছে। কিন্তু এই বাচ্চাগুলোরে মারার কারো কি দরকার পড়বে? ওর ৩টি বাচ্চাই যেহেতু অনেক অসুস্থ ছিল, বাচ্চাগুলো মারাও যেতে পারে।’

ফারজানা আফরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রীতিলতা হলে থাকেন।

একই হলের আরেক আবাসিক ছাত্রী উম্মে কুলছুম সালমা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর আগে বিড়ালটি যেসব বাচ্চা দিতো ওগুলোকে হলের সবাই খুব যত্ন নিয়েছে। এবারের বাচ্চাগুলোও অনেক সুন্দর ছিল। তাই এগুলোকে পুড়িয়ে মারার কোনও প্রশ্নই আসে না।’

তবে গতকাল থেকে সম্প্রতি প্রসব করা বাচ্চাগুলোকে হলে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট পারভীন সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রীতিলতা হল ও শামসুন নাহার হলের ভেতর দিয়ে একটি ড্রেন আছে। ওই ড্রেন দিয়ে বিড়ালগুলো শামসুন নাহার হলে যায়। কখনও শামসুন নাহার হল কখনও প্রীতিলতা হলে থাকে। হয়তো সকালে বিড়ালের বাচ্চাগুলো শামসুন নাহার হলে গিয়েছে এ কারণে সেগুলো ছাত্রীরা দেখতে পায়নি।’

আরও পড়ুন:
চবিতে জীবিত বিড়ালের বাচ্চা পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

/টিটি/

লাইভ

টপ