রিফাতকে হত্যায় ঘাতকরা সময় নেয় মাত্র চার থেকে পাঁচ মিনিট

Send
সুমন সিকদার, বরগুনা
প্রকাশিত : ১৭:১৯, জুন ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৯, জুন ২৭, ২০১৯

দুর্বৃত্তদের অস্ত্র থেকে স্বামীকে বাঁচাতে এক নারীর লড়াইঅন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই ছিল পরিবেশ। বুধবার (২৬ জুন) সকালে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিকে নিতে আসেন স্বামী রিফাত শরীফ। ঠিক তখনই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। আগে থেকে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন যুবক রিফাতকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে পেটাতে থাকে। এর পরপরই সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলে পরে রিফাতের ওপর। তারা উপর্যুপরি কোপাতো থাকে তাকে। হতবিহ্ববল মিন্নি দৌড়াদৌড়ি করে,চিৎকার করে আশেপাশের লোকজনের সাহায্য চান। কিন্তু,এক যুবক ছাড়া আর কেউ এগিয়ে না আসায় নিজেই ছুটে যান স্বামীকে বাঁচাতে। সন্ত্রাসীদের ধাক্কা দিয়ে, পেছন থেকে আঁকড়ে ধরে,তাদের হাত ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন মিন্নি। কিন্তু, তার অনুরোধে কান না দিয়ে, তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে রিফাতকে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে হাতে থাকা লাল রঙের একটা ব্যাগ দিয়ে সন্ত্রাসীদের রামদা’র কোপ আটকানোর চেষ্টা করছিলেন রিফাত। তারই একটিতে সন্ত্রাসী রিফাত ফরাজীর রামদা হাতল থেকে খুলে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সেই হাতলটাই রিফাত শরীফের গায়ে ঢিল মারে রিফাত ফরাজী। এরপর হাতে অস্ত্র না তাকায় ধরা পড়ার ভয়ে সে পেছাতে থাকে। তাকে দেখে রামদা উঁচিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নয়ন বন্ডসহ অন্য খুনিরা। মাত্র চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটে এই লোমহর্ষক ঘটনা।
রিফাতের স্ত্রী মিন্নি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় এ তথ্য জানা গেছে।
রিফাতের স্ত্রী বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেও ফেরাতে পারিনি। সন্ত্রাসীরা রাম দা নিয়ে আক্রমণ করে। আমি অনেক চেষ্টা করছি, অস্ত্র ধরছি, তাদের ধরছি, চিৎকার করছি। কেউ আগায়া (এগিয়ে) আসে নাই। কেউ আমারে একটু হেল্প করে নাই। আমি একলা হাসপাতালে নিয়া গেছি।'
উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে রিফাত হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন তার বাবা দুলাল শরীফ। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন তিনি। প্রধান আসামি করা হয়েছে খুনের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়নকে, যে এলাকায় ‘নয়ন বন্ড’ নামেও পরিচিত। মামলার চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

/এআর/টিএন/

লাইভ

টপ