সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৪০, জুলাই ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৬, জুলাই ০৭, ২০১৯

হিলি বন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজের চালানঈদুল আজহার এখনও এক মাস বাকি। তবু এর মধ্যেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৩ থেকে ২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে প্রণোদনা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ও রফতানি কমিয়ে দেওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বতর্মানে আমদানির পরিমাণ কমে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিন হিলি স্থলবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে বন্দর দিয়ে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত এ জাত পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রতি কেজি ছোট দানা ২২ টাকা থেকে ২৩ টাকা আর বড় দানার পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব হিলির খুচরা বাজারেও পড়েছে। সপ্তাহখানেক আগে আমদানি করা পেঁয়াজ ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন তা বেড়ে ২৫ থেকে ২৬ টাকাতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। আগে ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি হলেও, এখন তা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে হারে এখনই পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে, তাতে করে ঈদের আগে দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা যাচ্ছে না। দেশে না বন্যা হয়েছে, না অন্য কিছু, এছাড়া বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিও হচ্ছে, তবু সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়াটা বিস্ময়কর। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। আর এভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমরা যারা সাধারণ মানুষ রয়েছি তারা কীভাবে ব্যয় মেটাবো।

পেঁয়াজের ঊর্ধ্বগতি রুখতে সরকারের বাজার মনিটরিংয়ের ওপর গুরত্ব দেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার ইয়াকুব হোসেন ও রব্বানি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমরা পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। কিন্তু হঠাৎ করে দাম বাড়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। এখান থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনে মোকামগুলোতে নিয়ে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিবছর এমন সময়ে বন্দর দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও এবার ১৫ থেকে ২০ ট্রাক আসছে। এছাড়াও ভারতের ইউপিতে যে পেঁয়াজ গতসপ্তাহে প্রতি কেজি ছিল ৫ থেকে ৬ রুপি ছিল, তার দাম এখন ১০ থেকে ১১ রুপি। ভারতীয় রফতানিকারকরা সরকার থেকে প্রতি কেজিতে ১ রুপি করে প্রণোদনা পেতো, কিন্তু গত মাসের ১১ তারিখ থেকে তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর ওপর অতিরিক্ত গরমের কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এ কারণে ভারতের বাজারে চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। এসব কারণে আমরা ১০ ট্রাক পেঁয়াজ চাইলে পাচ্ছি তিন ট্রাক। এভাবে সব আমদানিকারকের মিলিয়ে বন্দর দিয়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানি কমার কারণে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

তবে আমদানিকারক সাইফুল ইসলামের মতে, ঈদুল আজহাতে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও, দাম তেমন আর বাড়বে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি বর্তমানে যে দাম রয়েছে, ঈদের সময় এমন দামই থাকবে।

/টিটি/

লাইভ

টপ